ভোটার তালিকা থেকে পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে সরাসরি হাজির হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে মুখ্যমন্ত্রীর এমন ব্যক্তিগত উপস্থিতিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলেই উল্লেখ করছেন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মহলের একাংশ। রাজ্যের ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে আপস নয়— এই বার্তাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন তিনি।
শীর্ষ আদালতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম ছাঁটাইয়ের চেষ্টা চলছে। তাঁর বক্তব্য, ‘গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড হল ভোটাধিকার। কোনও রাজ্যে লক্ষ্যভিত্তিকভাবে ভোটার বাদ দেওয়ার চেষ্টা হলে তা শুধু সেই রাজ্যের নয়, গোটা দেশের গণতন্ত্রের উপর আঘাত।’ মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আড়ালে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান, বিভিন্ন জেলার বহু মানুষ অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে বাদ পড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, একটি ধারাবাহিক প্রবণতা।’
সুপ্রিম কোর্টে তাঁর এই সরাসরি উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে কটাক্ষ করলেও, তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি—রাজ্যের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী।
আইনজ্ঞদের মতে, কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগতভাবে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়ে এমন অভিযোগ তোলা বিরল ঘটনা। আদালত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শুনেছে বলেও জানা গিয়েছে। আগামী দিনে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এই মামলার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হল, ভোটার তালিকা ও ভোটাধিকার নিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তীব্র হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র করে ওঠা এই অভিযোগ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দেশ।