প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ‘বন্দে মাতরম’-এ বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস

জাতীয় রাজধানী নয়াদিল্লির কর্তব্য পথ-এ অনুষ্ঠিত ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো। এই ট্যাবলোতে তুলে ধরা হয়েছে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-এর মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার অনন্য অবদান।

চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজের মূল ভাবনা ছিল জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি। সেই ভাবনার সঙ্গেই সামঞ্জস্য রেখে পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলোর বিষয়বস্তু নির্ধারিত হয়—‘ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলা’।

রঙিন ও শৈল্পিক এই ট্যাবলোর পিছনের অংশে দেখা যায় নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসুর প্রতিকৃতি, যেখানে ক্ষুদিরামকে ফাঁসির মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে দেখানো হয়েছে।


‘বন্দে মাতরম’ গানটি প্রথমে আলাদা কবিতা হিসেবে রচিত হয়েছিল এবং পরে বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ অন্তর্ভুক্ত হয়। ঔপনিবেশিক শাসনের সময় এই গান দেশবাসীর মনে স্বাধীনতার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। ১৮৯৬ সালে তৎকালীন কলকাতায় কংগ্রেস অধিবেশনে প্রথম এই গান পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

ট্যাবলোর পাশের প্যানেলে বাংলায় লেখা একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপির অনুকরণে তুলে ধরা হয়েছে—‘বন্দে মাতরম, আনন্দমঠ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়’। ট্যাবলোর মাঝখানে ছিল ঘোড়ায় আরোহী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি। তার সঙ্গে ঔপনিবেশিক আমলে পুলিশের অত্যাচারের প্রতীকী দৃশ্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরার ভাস্কর্যও স্থান পেয়েছে।

ট্যাবলোর নীচের অংশে অবিভক্ত বাংলার একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরা হয়েছে, যাঁরা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চিত্তরঞ্জন দাস, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, শ্রীঅরবিন্দ, স্বামী বিবেকানন্দ, বিনয়-বাদল-দিনেশ, বাঘা যতীন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কাজী নজরুল ইসলাম এবং রাসবিহারী বসু। একই অংশে কলকাতার ঐতিহাসিক আলিপুর জেলের সম্মুখভাগও চিত্রিত হয়েছে, যা বর্তমানে একটি জাদুঘর।

রাজ্য সরকারের তরফে প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই ট্যাবলো বাংলার ত্যাগ, নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে অবিস্মরণীয় অবদানকে শ্রদ্ধা জানায়। এর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুরে প্রথম গাওয়া ‘বন্দে মাতরম’-এর উপর ভিত্তি করে একটি সঙ্গীত পরিবেশনও ছিল ট্যাবলোর অন্যতম আকর্ষণ।

উল্লেখ্য, গত বছর প্রজাতন্ত্র দিবসে পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলোতে রাজ্য সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘লোকপ্রসার প্রকল্প’-এর মতো সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি তুলে ধরা হয়েছিল। সেই ট্যাবলোর সামনের অংশে ছৌ নৃত্যের আদলে দুর্গা প্রতিমা ও ‘নারী শক্তি’-র প্রতীকী উপস্থাপনাও ছিল।