• facebook
  • twitter
Friday, 27 February, 2026

এসআইআরের চাপে মৃত্যু, স্বজনহারা ৬১ পরিবারকে সরকারি চাকরি দিচ্ছে নবান্ন

মোট ৬১ জন মৃতের পরিবারের একজন করে সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালীন অতিরিক্ত চাপ, আতঙ্ক এবং নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রাজ্যে বহু মানুষের মৃত্যুর ঘটনার পর বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, এই কাজে যুক্ত অবস্থায় বা সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

নবান্ন সূত্রের খবর, মোট ৬১ জন মৃতের পরিবারের একজন করে সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে। যদিও কোন দপ্তরে নিয়োগ করা হবে এবং কবে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা চলছে।

Advertisement

উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে রাজ্যে শুরু হয়েছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ। ধাপে ধাপে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। সীমিত সময়ের মধ্যে বিশাল এই কাজ সম্পন্ন করার দায়িত্ব ছিল বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও), ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং জেলা পর্যায়ের আধিকারিকদের উপর।

Advertisement

এই সময়ের মধ্যে বিপুল চাপের মুখে পড়তে হয় সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। অভিযোগ, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং মানসিক উদ্বেগের কারণে কয়েকজন আধিকারিক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। আবার কেউ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। শুধু সরকারি কর্মী নয়, সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়ায়। প্রয়োজনীয় নথি না থাকা বা শুনানিতে ডাকার মতো বিষয় নিয়ে উদ্বেগে ভুগছিলেন অনেকেই। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকবে কিনা, সেই অনিশ্চয়তা অনেকের মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। কমিশনের অপরিকল্পিত কাজ এবং অযৌক্তিক চাপের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। তখন মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে। এবার সেটাই বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে মৃতদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়া বহু পরিবার এই চাকরির মাধ্যমে জীবনে নতুন করে চলার শক্তি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement