চূড়ান্ত তালিকায় বাদ ৬৩ লক্ষের বেশি নাম, মোট ভোটার ৭.০৪ কোটি

প্রতীকী চিত্র

রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতেই একদিকে যেমন ভোটার সংখ্যার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নজরে এসেছে, অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া এবং ৬০ লক্ষেরও বেশি নাম ‘বিচারাধীন’ থাকায় নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে মোট নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭,০৪,৫৯,২৮৪। সাত কোটির গণ্ডি পেরিয়ে এবার সাড়ে সাত কোটির দিকে এগোচ্ছে ভোটার সংখ্যা।

নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭,০৮,১৬,৬৩০। সংশোধনী প্রক্রিয়ায় নতুন করে ১,৮২,০৩৬ জনের নাম যুক্ত হয়েছে। বিশেষ অনুমতিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আরও ৬,৬৭১ জন। অন্যদিকে মৃত্যু, ঠিকানা পরিবর্তন, বা অন্যান্য কারণে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৫,৪৬,০৫৩ জনের নাম।

তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ‘বিচারাধীন’ তালিকাকে ঘিরে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬০,০৬,৬৭৫ জনের নাম আপত্তি ও যাচাই প্রক্রিয়ার কারণে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ তাঁদের নাম আপাতত তালিকায় থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। ফলে এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোটার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া মুর্শিদাবাদ, নদীয়া এবং বীরভূমেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার নথিভুক্ত রয়েছেন। বিধানসভা কেন্দ্রের নিরিখে দাসপুরে ভোটার সংখ্যা সর্বোচ্চ, যেখানে মোট ভোটার ২,৯৯,৪৩০। পাশাপাশি এগরা এবং সীতালকুচিতেও ভোটারের সংখ্যা যথাক্রমে ২,৯০,৩৬১ এবং ২,৯৭,৫২৮। বিপরীতে কলকাতার চৌরঙ্গী কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, মাত্র ১,৩৫,৩৫০।

লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৩,৬০,২২,৭২৮ এবং মহিলা ভোটার ৩,৪৪,৩৫,১৭৬। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১,৩৮০ জন। কলকাতার বালিগঞ্জ, ভবানীপুর এবং বেহালা অঞ্চলে মহিলা ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জানা গিয়েছে।

নাম বাদ পড়া নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। দাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, বাগদা এবং সোনারপুর উত্তরের মতো কয়েকটি কেন্দ্রে সর্বাধিক নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ। বিরোধীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট এলাকায় ভোটার ছাঁটাই করা হয়েছে। যদিও শাসকদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নামই নিয়ম অনুযায়ী বাদ দেওয়া হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, ‘যে নামগুলি বাদ দেওয়া হয়েছে, তা শুনানি ও নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়ার পরেই করা হয়েছে। কোনও ক্ষেত্রে ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করে থাকে, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিচারাধীন নামগুলির নিষ্পত্তির কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। ভোটের দিন ভোটারদের কোনও ভয় বা উদ্বেগের কারণ নেই। দুর্গাপূজার মতো স্বাভাবিকভাবে ভোট দিতে আসুন।’ নিরাপত্তার বিষয়েও তিনি আশ্বস্ত করে জানান, ভোটের আগে ১০ তারিখের মধ্যে ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে এবং শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে। তবে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া এবং বিচারাধীন থাকা ভোটারদের বিষয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তি না হলে ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।