বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কঠিন পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের খরিফ মরসুমে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় এখনও পর্যন্ত ৩২ লক্ষ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নথিভুক্তিকরণের নিরিখে গোটা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।
বিবৃতিতে শুভেন্দুর দাবি, ২০১৯-২০ সালে তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় কৃষকদের নথিভুক্তিকরণ বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে দীর্ঘদিন রাজ্যের কৃষকেরা ফসল বিমার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি তাঁর। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফের এই সুবিধা চালু করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত আর্থিক সুরক্ষা দিতে চলতি খরিফ মরসুমে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। গত অগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি ফসল বিমার আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে দাবি।
বন্যাপীড়িত জেলাগুলির মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরে ৭ লক্ষ ২৩ হাজার, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৪ লক্ষ ৭৩ হাজার কৃষক বিমার আওতায় এসেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। হুগলিতে এই সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৮ হাজার এবং ঝাড়গ্রামে প্রায় ৪২ হাজার।
কৃষকদের প্রিমিয়ামের বোঝা কমাতেও রাজ্য সরকার বড় অংশের টাকা বহন করছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। এক হেক্টর বা ২.৫ একর পর্যন্ত জমির ক্ষেত্রে কৃষকদের মাত্র ১ টাকা দিতে হচ্ছে। ১ থেকে ২ হেক্টর জমির ক্ষেত্রে একর প্রতি ১০০ টাকা দিতে হচ্ছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
বাকি প্রিমিয়ামের পুরো অর্থ রাজ্য সরকার বহন করছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এর ফলে কৃষকদের নিজেদের পকেট থেকে বিমার খরচ অনেকটাই কমছে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।
অগস্টের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি। বিমা সংস্থাগুলিকে ‘মিড-সিজন অ্যাডভার্সিটি’ বা মরসুমের মধ্যবর্তী ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন দ্রুত চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ নেওয়া কৃষকদের ফসল বিমায় নথিভুক্ত করার সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে আগামী দিনে বিমার আওতায় থাকা কৃষকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছে রাজ্য সরকার।
বিবৃতির শেষে শুভেন্দু বলেন, পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরাই সরকারের শক্তি ও প্রেরণা। তাঁদের ফসলের সুরক্ষা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার সবসময় পাশে থাকবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।