তারকেশ্বরে পুজো দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার হুগলির তারকেশ্বরে অবস্থিত বিখ্যাত তারকনাথ মন্দিরে পুজো ও প্রার্থনা করেন। প্রশাসনিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারকেশ্বর সফরে গিয়ে তিনি প্রথমে বাবা তারকনাথের মন্দিরে পৌঁছে বিশেষ পুজোয় অংশ নেন এবং রাজ্যের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানুষের কল্যাণ কামনা করেন।

মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তারকেশ্বর শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় তীর্থস্থান নয়, এটি বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সারা বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত এখানে আসেন এবং বাবা তারকনাথের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। তাই একজন ভক্ত হিসেবে তাঁর কাছেও এই মন্দিরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তিনি জানান, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুযোগ পেলেই তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে গিয়ে প্রার্থনা করেন।

শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, তারকেশ্বরের উন্নয়নে রাজ্য সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্দির চত্বর এবং আশপাশের এলাকায় পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের সুবিধা বৃদ্ধির জন্য একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তারকেশ্বরকে আন্তর্জাতিক মানের ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।


মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, তারকেশ্বরের সঙ্গে বাংলার ইতিহাসও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে সামনে আনার উদ্যোগও নেওয়া হবে। পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্দিরে পুজো দেওয়ার সময় বহু ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দা মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে উৎসাহ প্রকাশ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মন্দিরে প্রার্থনার পর তিনি স্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলির উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে সরকার একদিকে যেমন পর্যটন শিল্পকে শক্তিশালী করতে চাইছে, তেমনই বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রচারেও গুরুত্ব দিচ্ছে। তারকনাথ মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর ও পুজো সেই বার্তাকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এল।