পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ রাজ্য সরকারের কাজে নিযুক্ত। নির্বাচন কমিশনের আবেদন ছিল, তাঁদের প্রত্যেককেই এবার হলফনামা জমা দিতে হবে। জানাতে হবে, তাঁরা কোথাকার ভোটদাতা? কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার অন্তত ১০ দিন বাদেও রাজ্যের কাছ থেকে পর্যাপ্ত উত্তর আসেনি। এতে এসআইআর-এর প্রক্রিয়া আংশিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসের শেষদিকে নবান্নে পাঠানো রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওই চিঠিতে লেখা হয়েছিল, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের বহু কর্মী অনেক সময় বদলির চাকরি করেছেন বা করছেন।
সময় বিশেষে তাঁদের অনেকে নতুন জায়গায় ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। কিন্তু পুরনো জায়গা থেকে নাম বাদ যায়নি। আবার একই ব্যক্তির নাম দুই জায়গার ভোটার তালিকায় রাখা যাবে না। তাই, বর্তমানে ভিন জেলায় বা রাজ্যে কর্মরতরা কি সেই জায়গার ভোটার, নাকি অন্য জায়গার? তিনি আগে কোথায় ভোটার ছিলেন– এইসব তথ্যই তাঁকে হলফনামা আকারে দিতে হবে। দু’জায়গায় ভোটার তালিকায় যদি নাম থাকে, তাহলে এক জায়গায় কাটাতে হবে। রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠিয়ে হলফনামা চেয়ে ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করতে চেয়েছিল সিইও দপ্তর। নবান্নে পাঠানো সিইও-র চিঠিতে তারিখেরও উল্লেখ ছিল। আগেই কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছিল, কোনও ভোটদাতার যদি দুই জায়গায় নাম থাকে, তাহলে এক জায়গার নাম এসআইআর-এর মাধ্যমে বাদ পড়ে যাবে। সিইও অফিসের তরফ থেকে রাজ্যকে জানানো হয়েছিল, রাজ্য সরকারি কর্মীরা কেবলমাত্র একই জায়গায় ভোটদাতা, সেটা তাঁদেরকেই দায়িত্ব নিয়ে জানাতে হবে। যদি কেউ মিথ্যা কিংবা ভুল তথ্য দেন, সেটা হলফনামা আকারে জমা থাকবে কমিশনের কাছে। সেই মোতাবেক পদক্ষেপ করবে নির্বাচন কমিশন। সেই লক্ষ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই নিয়ে বিএলও সংগঠনের নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীদের জন্য এই আবেদনপত্র তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্কুলেও পাঠানো হয়েছে। আবেদনপত্রে পরিষ্কার করে জানাতে হবে, তাঁদের নাম অন্য কোথাও ছিল কিনা। যদি থেকে থাকে, তাহলে সেই নাম বাদ দেওয়ার জন্য তাঁরা কোনও পদক্ষেপ করেছেন কিনা, কোথাও আবেদন করেছেন কিনা সেটাও জানাতে।
নবান্নের বক্তব্য, সরকারি কর্মীদের ‘ডিক্লারেশন ফর্ম’ পাঠানো হয়েছে। পূরণ করা আবেদনপত্র দ্রুততার সঙ্গে কর্মীরা ওপর মহলে না পাঠানোয় সিইও দপ্তরে তা জানানো সম্ভব হয়নি। তবে, চেষ্টা হচ্ছে পূরণ করা আবেদনপত্র ও হলফনামা দ্রুত পাওয়ার। আর এই কারণেই ব্যাঘাত ঘটছে এসআইআর-এর কাজে।