পশ্চিমবঙ্গের ভোটের আবহে হঠাৎই তুমুল বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আই-প্যাক। সংস্থার কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। তবে তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

রবিবার সকালে সংবাদমাধ্যমে আই-প্যাকের একটি ইমেল ঘিরে খবর ছড়িয়ে পড়ে। সেই ইমেলে নাকি পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত কর্মীদের ২০ দিনের জন্য ছুটিতে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে এবং ‘আইনি বাধ্যবাধকতা’র কারণে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, ১১ মে-র পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও কর্মীদের জানানো হয়েছে। এই খবর সামনে আসতেই জল্পনা তৈরি হয়— তাহলে কি ভোটের মাঝপথে তৃণমূলের কৌশলগত সহযোগী সংস্থা কাজ গুটিয়ে নিচ্ছে?

এই জল্পনার মাঝেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেয় তৃণমূল। দলের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ‘আই-প্যাকের কাজ বন্ধের খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা।’ তৃণমূলের দাবি, আই-প্যাক আগের মতোই দলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজ্যজুড়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। দলের বক্তব্য, ‘ময়দান থেকে মনোযোগ সরাতেই এই ধরনের অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে।’ একই সঙ্গে বার্তা দেওয়া হয়, বাংলার মানুষ সব দেখছেন এবং গণতান্ত্রিক উপায়েই এর জবাব দেবেন।

এদিকে আই-প্যাক সূত্রে খবর, রবিবার দুপুর থেকেই সংস্থার বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক শুরু হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজ চালানো হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, তবুও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে কর্মীদের সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তৃণমূলের একাংশের দাবি, অফিসিয়ালি কাজ বন্ধ থাকলেও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পদ্ধতিতে কিছু কাজ চালিয়ে যাওয়া হতে পারে।


উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক সময়েই আই-প্যাককে ঘিরে কেন্দ্রীয় তদন্তের বিষয়টি সামনে আসে। কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সংস্থার কলকাতার দপ্তর এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি ‘চুরি’ করার চেষ্টা হয়েছে। এই ইস্যু নিয়ে মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে, যেখানে বিষয়টি এখনও বিচারাধীন।

এছাড়াও, আই-প্যাকের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলের গ্রেপ্তারি নিয়েও রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে ‘ভীতি প্রদর্শন’ বলে আখ্যা দেন। সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে আই-প্যাকের ভূমিকা ঘিরে তৈরি হওয়া এই ধোঁয়াশা রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে। বাস্তবে সংস্থার কাজ বন্ধ হয়েছে কিনা, নাকি শুধুই জল্পনা— তা স্পষ্ট না হলেও, এই বিতর্ক যে ভোটের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তা বলাই যায়।