‘দরকারে আমরা ওদের চাকরি দেব: মমতা

ভোটের আবহে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর যখন তুঙ্গে, তারই মাঝে আইপ্যাকের কাজ বন্ধ হওয়ার খবর ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হল। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস শুরু থেকেই এই দাবি খারিজ করে জানিয়েছে, বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।

রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তারকেশ্বরের সভা থেকে এই ইস্যুতে সরব হন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভোটের মুখে বারবার ইডির অভিযান চালিয়ে রাজনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘ভোটের সময়ই কেন এসব রেড? আমাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ভয় দেখিয়ে বাংলা ছাড়তে বলা হচ্ছে কেন?’ একই সঙ্গে আইপ্যাক কর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তাঁদের চাকরির ব্যবস্থাও করা হবে। তিনি বলেছেন, ‘একজনকেও চাকরিহারা হতে দেব না।’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালায়। সেই ঘটনার উল্লেখ করে মমতা ক্ষোভ উগরে দেন এবং দাবি করেছেন, তাঁদের প্রার্থীদের পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপিকে নিশানা করে তাঁর প্রশ্ন, ‘তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে রেড হচ্ছে, কিন্তু বিজেপি নেতাদের ক্ষেত্রে কেন নয়?’


এই আবহেই রবিবার সকালে ছড়িয়ে পড়ে আইপ্যাকের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, সংস্থার এইচআর বিভাগ কর্মীদের ২০ দিনের ছুটিতে পাঠাচ্ছে এবং আইনি জটিলতার কারণে আপাতত কাজ স্থগিত রাখা হচ্ছে। ১১ মে-র পর ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ঠিক হবে বলেও জানা যায়।

তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই জল্পনায় ইতি টানে তৃণমূল। দলের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, আইপ্যাক আগের মতোই রাজ্যজুড়ে কাজ করছে এবং এই ধরনের খবর ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। তাদের দাবি, ভোটের আগে বিভ্রান্তি তৈরির উদ্দেশ্যেই এই গুজব রটানো হয়েছে।

দলের বার্তা, বাংলার মানুষ এই ধরনের প্রচার বুঝতে পারছেন এবং গণতান্ত্রিক উপায়েই এর জবাব দেবেন। ফলে, দিনের শুরুতে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা বিকেলের মধ্যেই অনেকটাই কেটে যায়।