ভোটের প্রচারে ঝড় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জ ছাড়াও পুরুলিয়ার কাশীপুর ও রঘুনাথপুরে জোড়া সভা করেন নেত্রী। তিনটি জনসভা থেকেই ফের একযোগে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বিজেপিকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, ‘তৃণমূল সমুদ্র। জনতার সমুদ্র। কিন্তু তোমরা তো জলাশয়ও নও। সমুদ্রকে কী করে শুকিয়ে দেবে?’ রানিগঞ্জের সভা থেকে বড় প্রতিশ্রুতিও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার রানিগঞ্জের সভা থেকে ধসপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য আর্থিক ও আবাসন প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি। স্পষ্ট জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে এলে প্রত্যেক পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। সঙ্গে দেওয়া হবে দু’টি করে ফ্ল্যাট। এমনকী, ঘর বদলানোর সমস্ত খরচও মেটাবে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে পুরুলিয়ার কাশীপুরের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভোটটা জোড়াফুলকে না দিলে বিজেপি সব কেড়ে নেবে। খাওয়াদাওয়া, কথা বলা সব বন্ধ করে দেবে। উত্তরপ্রদেশে মেয়েরা থানায় ডায়েরি করতে পারে না। করতে গেলে পুড়িয়ে মারা হয়। বিজেপি শুধু মুখে বড় বড় কথা বলে।’ তাঁর দাবি, প্রতিশ্রুতি মতোই তিনি জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন।
রানিগঞ্জের সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ধসপ্রবণ এলাকার মানুষের জন্য ইতিমধ্যেই সরকার ২০০০ ফ্ল্যাট তৈরি করেছে। আগামী দিনে আরও ৪০০০ ফ্ল্যাট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বড় ধস নামলে হাজার হাজার মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য আপনারা নতুন ফ্ল্যাটে সরে যান।’ রানিগঞ্জের সভায় রাজ্যের শিল্প নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা ডেউচা পাঁচামি করছি। আসানসোলে সেল গ্যাস কোম্পানি। ২২ হাজার কোটি বিনিয়োগ হচ্ছে। ইকোনমিক করিডোর হচ্ছে। ডানকুনি থেকে বর্ধমান-বাঁকুড়া হয়ে যাচ্ছে। অনেক শিল্প হচ্ছে। ডিভিসিকে ১০ হাজার একর জমি দিয়েছি। চাকরি এখানকার লোকই পাবে। আমরা বেঙ্গল প্যাকেজে করেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়, সড়ক, সব আমরা করেছি। উর্দু, শিখ, অলচিকি ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের আরও দশটা কাজ করতে হবে।’
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রের চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ধুঁকছে। এক সময় তিনি প্রাণ দিয়ে চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভকে বাঁচিয়েছিলেন। বছরের পর বছর ধরে ইসিএস, বিসিসিএলের কোনও আধুনিকীকরণ হয়নি। বিজেপি একের পর এক কয়লাখনি বন্ধ করেছে। ওরা চালাতে পারছে না, আবার কাউকে দিতেও রাজি নয়। আসলে বিজেপি খনি থেকেও টাকা রোজগার করে। এরা দু’কান কাটা।
রঘুনাথপুরের সভা থেকে ফের কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও নিশানা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ভোটের সময় ওরা বিজেপি হয়ে গিয়েছে। তাঁর কাছে সব খবরই আছে। বিজেপির টাকায় নিজেদের বেচবেন না। পাশাপাশি নেত্রী আমজনতার উদ্দেশে বলেন, ‘ভোটের আগের দিন থেকে বাইরের গুন্ডারা আসছে কি না সেটা মা বোনদের লক্ষ্য রাখতে হবে। পুলিশের পোশাক পরে সেন্ট্রাল ফোর্স যদি ছাপ্পা দিতে আসে, রুখে দাঁড়াতে হবে। কেউ যদি ভোটমেশিন দখল করতে আসে, রুখে দাঁড়াতে হবে। কাউন্টিংয়ের দিন ফাইনাল রেজাল্ট বের না হওয়া পর্যন্ত থাকতে পড়ে থাকতে হবে। সঙ্গে পাখা নিয়ে যাবেন। বাড়িতে রুটি বেলা হয়। বেলনা আছে। সেটাও নিয়ে যাবেন।’
তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, এসআইআরে বেছে বেছে মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম মহিলাদের নাম ঢেলে বাদ দিয়েছে। হিন্দুদেরও নাম বাদ গিয়েছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তোপ দেগে বলেন, ‘ওরা তো ডাকাত। দেশ বেচে দেওয়ার ডাকাত। তাই আপনাদের ঠিক করতে হবে কৌরবদের চান না পাণ্ডবদের? মনে রাখবেন তৃণমূল পাণ্ডব আর বিজেপি কৌরবদের দল।’
কাশীপুরের সভায় নেত্রী আরও বলেন, ‘ডিটেনশন ক্যাম্প করে ওরা তাড়াতে চাইছে। কিন্তু আমি একটা লোককেও তাড়াতে দেব না। বরং বিজেপিকেই দিল্লি থেকে তাড়াব। আগে ওদের বাংলা থেকে তাড়াব, তারপর সব দলকে পাশে নিয়ে দিল্লি থেকে তাড়াব ওদের। মনে রেখো, যতই করো হামলা তৃণমূল জিতবে বাংলা। আর বিজেপি হবে ভ্যানিশ।’
পদ্ম শিবিরের উদ্দেশে মমতার হুঁশিয়ারি, বিজেপিকে বলছি, আমাদের লোকজনকে টাকা দিয়ে কেনার চেষ্টা করবেন না। মনে রাখবেন, যম আছে পিছে, পালাবার পথ পাবেন না। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বছর বছর তেল, গ্যাসের দাম বাড়ায়। ভাড়া বাড়ায় রেলের। কিন্তু তিনি যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন তখন ভাড়া বাড়াননি। ভাড়া বাড়ালেও ট্রেনের পরিষেবার মান খুবই খারাপ। খাবারে পোকা থাকে। এসআইআর নিয়ে নেত্রী আরও বলেন, ‘যাঁদের নাম বাদ পড়ছে তাঁদের ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে।
এরপর পাঁচের পৃষ্ঠায়