বারাসতের কাছারি ময়দানে রণসংকল্প সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, উত্তর ২৪ পরগনার ৩৩টি বিধানসভা কেন্দ্রেই তৃণমূল জয়ী হবে এবং বাংলার মাটিতে ‘বহিরাগত রাজনীতি’ বরদাস্ত করা হবে না। বিধানসভা নয়, এবার লড়াই হবে বুথ স্তরে, শিক্ষা দেওয়ার লড়াই— এমনই আহ্বান জানান তিনি।
সভামঞ্চ থেকে অভিষেক অভিযোগ করেন, মাত্র দুই মাসে ৯২ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই মৃত্যুর দায় কার? যাঁদের নীতির কারণে এত মানুষের প্রাণ গেল, তাঁদের কি বাংলা জবাব দেবে না? তাঁর দাবি, ভোট বাক্সেই তার উত্তর দেবে সাধারণ মানুষ। তিনি আরও বলেন, এমন জবাব দেওয়া হবে যাতে আগামী একশো বছরেও কেউ বাংলার দিকে কুনজর দেওয়ার সাহস না পায়।
দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে অভিষেক স্পষ্ট নির্দেশ দেন, উত্তর ২৪ পরগনায় দায়িত্ব নিতে হবে ৩৩–০ ফল নিশ্চিত করার। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপিকে ৫০ আসনের নিচে নামানোর দায়িত্ব তিনি নিজে নেবেন। উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের প্রতি ভালোবাসার ঋণ শোধ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা।
বারাসতে সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভামঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বোস, রথীন ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও ব্রাত্য বসু,পাশাপাশি সভায় যোগ দেন ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক, বারাসাত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ও সাংসদ ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী। তাঁদের পাশাপাশি জেলা ও রাজ্য স্তরের একাধিক তৃণমূল পদাধিকারী নেতা ও জনপ্রতিনিধিরাও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক অভিযোগ করেন, রাস্তা তৈরির জন্য বরাদ্দ অর্থ আটকে রেখেছে কেন্দ্র সরকার। তবুও রাজ্য সরকার নিজেদের কোষাগার থেকে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে বাংলাজুড়ে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। তাঁর দাবি, সেই প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে। শুধু তাই নয়, কেন্দ্র আটকে রাখা বাংলার মানুষের বাড়ির অর্থও রাজ্য সরকার নিজে দিয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজনৈতিক বক্তব্যে আরও কড়া সুরে অভিষেক বলেন, ‘বাংলাকে মারতে এলে তার ফল ভয়াবহ হবে।’ তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ কখনও বশ্যতা স্বীকার করতে জানে না, মেরুদণ্ড বিক্রি করাও তাদের অভিধানে নেই।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশকেও হাতিয়ার করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়েছে, সেই তালিকা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দিতে হবে।
এই রায়কে তৃণমূলের পক্ষে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে অভিষেক বলেন, আদালতে হারিয়েছে বিজেপি, এবার এপ্রিলের ভোটেও হারবে। তাঁর কথায়, “বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি। এটা উত্তরপ্রদেশ
বা গুজরাট নয়।