রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গোটা বাংলার কেউই জানতেন না দলটা সম্পর্কে। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে বদলে গেল সব হিসেব। আচমকাই শিরোনামে উঠে এল এনসিপিআই। প্রাথমিকভাবে অনেকে গুলিয়ে মহারাষ্ট্রের এনসিপি দলের কথাও ভেবে ফেলেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে স্পষ্ট হল সবটা। দলটার নাম প্রথম সামনে আসে যখন স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা জানালেন যে তাঁরা মিশে যাচ্ছেন এনসিপিআই এর সঙ্গে।
তারপরেই হঠাৎ শিরোনাম হয়ে ওঠা এই দলটি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে ফেসবুক পেজও খুলে দিল। আর সেই পেজে ফলোয়ারের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ওই পেজে সকল বিদ্রোহী তৃণমূলীদের স্বাগত জানানো হয়েছে। আর সেই সঙ্গে বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকেও লোকসভার দলনেতা হিসেবে স্বাগত জানিয়ে একটি পোস্ট করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা মুছেও দেওয়া হয়। অপর পোস্টে একটি গ্রাফিক পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে লোকসভার সাংসদদের বিচারে তারা পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম দল। সেখানেই জানানো হয়েছে লোকসভায় ২০টি আসন নিয়ে এনসিপিআই এখন সংসদীয় শক্তির বিচারে পশ্চিমবঙ্গের সব থেকে বড় শক্তি। আরও জানানো হয়েছে তারাই জাতীয় স্তরে রাজ্যের কন্ঠস্বর।
ফেসবুক পেজের তথ্য অনুসারে জানা গিয়েছে, এই রাজনৈতিক দলটির প্রধান কার্যালয় হাওড়ার সাঁকরাইল থানা এলাকার হাটগাছে অবস্থিত। ত্রিপুরায় আত্মপ্রকাশ করলেও এই দলটির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সাংগঠনিক প্রধান হলেন শিউলি কুণ্ডু। পেশায় আইনজীবী হলেও দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সমাজসেবার সঙ্গেও যুক্ত। তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চালান। তাঁর স্বামী উত্তীয় কুণ্ডুও এই কাজে সহযোগিতা করতেন।
২০২২ সাল থেকে হাটগাছায় এনসিপিআই রয়েছে। ২০২৩ সাল নাগাদ পঞ্চায়েত নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিল এই দলটি। পরবর্তীতে যদিও লোকসভা ও বিধানসভা ভোটে কোনো প্রার্থী দেয়নি তারা। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যের পর থেকেই আচমকাই শিরোনামে উঠে আসে কার্যত অস্তিত্বহীন এই দলটি। এমনকি ববিপুল মমানুষজন হাটগাছায় এই দলটির কার্যালয়ের সামনে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কাউকেই পাওয়া যায়নি। যদিও পরিস্থিতির কথা ভেবে এনসিপিআই কার্যালয়ের সামনে পুলিশি প্রহরা মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও তৎকালীন ন্যাশানাল অর্গানাইজিং সেক্রেটারি শান্তনু দে জানিয়েছেন তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না। জানলেই তিনি বিরোধিতা করতেন। আর জানার পরেও তিনি যে এই সিদ্ধান্তের বিরোধী তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমের কাছে। যদিও জানা যাচ্ছে এনসিপিআই এর প্রতিষ্ঠাতাদের বর্তমান ঠিকানা হাওঢ়া হলেও আসলে কেউ কেউ নদিয়ার বাসিন্দা। আর নদিয়াতে তাদের কিছু সমর্থকও রয়েছে। আরও জানা যাচ্ছে দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও কর্মীদের একটা বড় অংশ প্রয়াত মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ।