তারাতলা বিপর্যয়ে গ্রেপ্তার গুদামের মালিক, মৃত ১১

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে তারাতলার একটি আবাসন থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করেছে। রাতেই  গুদামের নির্মাণ ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত প্রায় নয় জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারাতলা থানার পুলিশ।

পরে শম্ভু-সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন স্ট্রাকচারাল ই্ঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, সুপারভাইজার সৈয়দ মহম্মদ গুলজার, গুদামে শ্রমিক সরবরাহকারী মহম্মদ আতাউল এবং সুভাষ সরকার।এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার সকালেও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কয়েকজন আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ধারকার্যে হাইড্রলিক ক্রেন ব্যবহার করে ভেঙে পড়া কাঠামোকে স্থির রাখা হয়েছে।

এখনও পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০ জন আহত অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে চারজন নদিয়ার এবং একজন উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ার বাসিন্দা।

ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। এই ঘটনায় সিট তদন্ত করে রাজ্য সরকারকে রিপোর্ট দেবে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দমন) কুণাল আগরওয়াল এর নেতৃত্বে কাজ করবে সিট। এই দলে রয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের এক সহকারী পুলিশ কমিশনার, হোমিসাইড শাখার ওসি, গোয়েন্দা বিভাগের চারজন কর্মকর্তা এবং তারাতলা থানার দুই সাব-ইন্সপেক্টর।

বুধবার দুপুর ১২ টা ৭ মিনিটে তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ আচমকা ভেঙে পড়ে। লোহার বিম ও কংক্রিটের স্তূপের নিচে চাপা পড়েন ৪০ জন শ্রমিক।পুলিশ, দমকল এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যের উদ্ধারকাজ চালায়। পরে রাজ্য সরকারের অনুরোধে ভারতীয় সেনা এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা উদ্ধারকাজে হাতা লাগায়।

কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, গুদাম তৈরির জমি বন্দর কর্তৃপক্ষের এবং ২০২৪ সালের আগস্টে ‘বেহরা ব্রাদার্স’ নামে একটি সংস্থাকে ৩০ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছিল। ওই গুদামে মূল চা-পাতা রাখা ও প্যাকেজিংয়ের কাজ হত। ওই সংস্থার অন্যতম মালিক শম্ভুনাথ বেহরাই গুদাম নির্মাণের কাজের দায়িত্বে ছিলেন।