মুখ্যমন্ত্রীর দেখানাে পথে হেঁটেছি বলে সাফাই সব্যসাচী দত্তের

বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত। (File Photo: IANS)

বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তের মেয়র পদ খােয়ানাে কেবল সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এ বিষয়ে রবিবারই তৃণমূল ভবনে দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ফিরহাদ হাকিম।

যদিও শেষ পর্যন্ত এই বৈঠকে সব্যসাচীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ঘােষণা করা হয়নি। বল এখন শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির কোর্টে।

ফলে সব্যসাচী দত্তের ভাগ্য এখন দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির হাতে বলা যায়। যদিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, গত কয়েক মাসে সব্যসাচী যেভাবে একের পর এক মন্তব্য করে দলকে বিপাকে ফেলেছেন শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটিও তাঁর ওপর খুব বেশি সদয় হবে না।


শেষ পর্যন্ত দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে মেয়র পদ খােয়ানাের সমূহ সম্ভাবনা। কিন্তু এতসবের মাঝেও ডােন্ট কেয়ার মনােভাব বিধাননগরের এই দাপুটে নেতার।

তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর দেখানাে পথে হেঁটেছি। এমনকি তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে তিনি সিঙ্গুর আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। সব মিলিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েও হার না মানার মনােভাব সমানে বজায় রেখেছেন বিধাননগরের মেয়র। 

প্রসঙ্গত, দলের অন্দরে তাঁর সাঙ্গে দলীয় সাংসদ কাকলি ঘােষ দস্তিদারের বেশ কয়েক বছর যাবৎ ঠান্ডা লড়াই চলছে। এ বছরের লােকসভা নির্বাচনে দলনেত্রী ফের কাকলি ঘােষ দস্তিদারকে টিকিট দিলে সেই বিরােধের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

এরপর একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে দলকে বিপাকে ফেলতে শুরু কবেন সব্যসাচীবাবু। ফলে তাঁর আচরণে ক্ষুব্ধ দলীয় নেতৃত্ব তাঁকে নিয়ে শ্রীভূমির ক্লাবে বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে শেষে দলেই আছেন বলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মেয়র নিজে। তারপর আবার স্বমহিমায় দেখা যায় সব্যসাচীকে। ফের একের পর এক আলটপকা মন্তব্য করতে শুরু করেন।

এরপরে গত শুক্রবার সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়ে তিনি যেভাবে রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শােভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন এবং বিদ্যুৎ ভবনের কর্মীদের নিয়ে বিদ্যুৎ ভবনে হামলা চালান তাতে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে দলীয় নেতৃত্বের।

আর সে কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তৎপর হয়ে ওঠে তৃণমূল নেতৃত্ব। আর সে কারণেই দলনেত্রীর নির্দেশে তৃণমূল ভবনে কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে বসেন ফিরহাদ হাকিম।

যদি ওই বৈঠক শেষে কোনও সিদ্ধান্ত ঘােষণা করা হয়নি। কিন্তু যাকে নিয়ে এত হইচই সেই সব্যসাচী দত্ত এত কিছুর পরও কার্যত নিরুদ্বেগে রয়েছেন বলা যায়। তাঁর বক্তব্য, তিনি আন্দোলনের পথেই রয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর দেখানাে পথ অনুসরণ করছেন।

আর তাঁর এই বক্তব্য বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁদের ধারণা, এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে তিনি একদিকে যেমন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সৈনিক বলে পরিচয় দিলেন। অন্যদিকে কাটমানি, বিদ্যুৎ কর্মীদের দাবির প্রতি সহমত জানিয়ে আন্দোলন সমর্থন করে তাঁর প্রতিবাদী ভাবমূর্তি বজায় রাখলেন।

কথা তিনি ‘অ্যাটাকিং ডিফেন্স’ পথ অনুসরণ করেই তাঁর বিরুদ্ধে গােষ্ঠীকে বার্তা দিলেন। এখন দেখার দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়।