মাইক্রো অবজার্ভারকে চড় মারা অভিযোগ ভোটারের

এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর থেকেই নানা বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মৃত্যু থেকে হেনস্থা কিছুই বাদ যায়নি। এবার বিএলও-র পর মাইক্রো অবজার্ভারকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল। রবিবার এক ব্যক্তিরও মৃত্যু হয়েছে বলেও খবর। তার জন্য এসআইআরকে দায়ী করল পরিবার।

দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ বিডিও অফিসে শনিবার এসআইর-এর শুনানির কাজ চলছিল। সেখানেই এক মাইক্রো অবজার্ভারকে থাপ্পার মারার অভিযোগ উঠেছে। থাপ্পড় মেরেছে এক ভোটার, সেরকমই অভিযোগ। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যার সত্যতা যাচাই করেনি দৈনিক স্টেটসম্যান পত্রিকা। তার পর থেকে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি এ নিয়ে সরব হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাজে প্রথম থেকেই নানা ভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের। অভিযোগের তির শাসকদলের দিকে। সরকারি আধিকারিক, কর্মীদের উপরেও হামলা চালানোর অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার কুমারগঞ্জ বিডিও অফিস চত্বরে এসআইআর-এর কাজ করছিলেন মাইক্রো অবজার্ভার দিব্যেন্দু গড়াই। তাঁর উপর হঠাৎ চড়াও হন কয়েক জন। তাঁদের মধ্যে একজন থাপ্পড় মারেন দিব্যেন্দুকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। তবে আক্রমণকারীর পরিচয় এবং আক্রমণের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির। তবে অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


কুমারগঞ্জের ঘটনায় স্বতোঃপ্রণোদিত ভাবে পদক্ষেপ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্টভাবে নিয়োগ করেছিল ওই মাইক্রো অবসার্ভারকে।  ফলে তাঁর সুরক্ষা এবং তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন রাজ্য পুলিশকে বারবার বিষয়টি জানায়। কিন্তু রাজ্য পুলিশ কোন পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ করেছে কমিশন।  রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করা হবে। যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

অন্য দিকে, রবিবার মুর্শিদাবাদের নওদায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুর হয়েছে বলে খবর। নাম তোজাম্মেল শেখ। বয়স ৬৫ বছর। এসআইআর-এর নোটিস পাওয়ার পর থেকেই বৃদ্ধ উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন বলে অভিযোগ পরিবারের। তার পরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

তোজাম্মেল ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্য এসআইআর-এর নোটিস পায়। তোজাম্মেলের ভাই মহসিন শেখ জানিয়েছেন, ‘২০০২ সাল থেকে ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও সামান্য কিছু তথ্যগত ত্রুটির কারণে আইনি জাঁতাকলে পড়তে হয়েছে। ভাই ছাড়াও ওর স্ত্রী এবং পুত্রের নামেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিস পাওয়ার পর থেকে ভাই ভয় পেয়ে গিয়েছিল।’ তিনি আরও জানান, দিন কয়েক আগে বাজার করতে বেরিয়ে আচমকা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিলেন তোজাম্মেল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। তাই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে কল্যাণীর গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের অনুমান, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা ব্রেন স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধের।

বৃদ্ধের মৃত্যুর জন্য এসআইআর-কে দোষারোপ করেছে পরিবার। একই সঙ্গে সুর চড়িয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। নওদা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল পর্যবেক্ষক মোশারফ হোসেন মধু জানিয়েছেন, ‘বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মিলে সাধারণ মানুষকে অযথা হেনস্থা করছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে গ্রামের গরিব মানুষগুলোকে।’ অভিযোগ অস্বীকার করেছে গেরুয়া শিবির। তারা পাল্টা আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেসকে।