‘দেশ বাঁচানোর ভোট’, কুণাল এবং শোভনদেবকে পাশে নিয়ে রাজ্যবাসীকে বার্তা কেজরীওয়ালের

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে বাংলার মাটি থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়াল।  রবিবার বেলেঘাটা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি এই নির্বাচনকে শুধুমাত্র ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়, বরং ‘দেশ বাঁচানোর সংগ্রাম’ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলার মাটি থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে, তা ভবিষ্যতে ভারতকে পথ দেখাতে পারে।

সভায় উপস্থিত মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য ভাঙা বাংলায় কথা বলতেই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা চত্বর। তবে আবেগের পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে সাধারণ ভোটারদের মনে ভয় সঞ্চার করার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, এই নির্বাচন গণতন্ত্র রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

ভোটার তালিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তোলেন কেজরীওয়াল। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে যাতে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে মানুষকে সচেতন থাকতে হবে এবং নিজের নাম তালিকায় আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে।


এদিন তিনি সরাসরি নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের  নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  সংগ্রামী ভূমিকার প্রশংসা করে তাঁকে সমর্থনের আহ্বান জানান।

বেলেঘাটায় কুণাল ঘোষের কেন্দ্রের পাশাপাশি এদিন বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হয়েও প্রচার চালান দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল। তিনি বালিগঞ্জ থেকে বলেন, ‘এক নারী সব পে ভারী’।  কেজরীওয়াল বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকানোর জন্য বিজেপি ইডি, সিবিআই, নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে কাজে লাগাচ্ছে।

বালিগঞ্জের সভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও ছিলেন তৃণমূল সাংসদ মালা রায় ও তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সুশীল শর্মা। অরবিন্দ কেজরীওয়াল বলেন, ‘এই ভোট দেশকে বাঁচানোর লড়াই। যখন দেশে স্বাধীনতা সংগ্রাম হয়েছিল,  তখন সবচেয়ে বেশি বাংলা থেকেই অংশগ্রহণ করেছিল। আর এই লড়াইটা দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করার লড়াই। সারা দেশ এই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। ১২ বছর ধরে মোদী দেশকে বরবাদ করে দিয়েছে। কোথাও চাকরি নেই। মোদীকে মানুষ পছন্দ করে না। তাই মোদীকে নিয়ে মিম তৈরি হয়। ট্রাম্পের সামনে মোদী একটা কথাও বলতে পারে না। যখন মোদী, অমিত শাহ দেখছেন তাঁরা জিততে পারবেন না, তখন তাঁরা ভোটার লিস্টে কারচুপি করেছেন। বাংলা থেকে ২৭ লক্ষ লোকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ভোটার লিস্টে ভুয়ো ভোটারের নাম ঢোকানো হয়েছে। একমাত্র মমতা দিদিই বাঁচাতে পারে আপনাদের।‘

২৭ লক্ষ লোকের নাগরিক হিসেবে নাম বাদ গিয়েছে। তাঁরা সবাই টিএমসির কর্মী হয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে টিএমসির পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে কেজরীওয়াল। কেজরীওয়ালের প্রশ্ন, সাড়ে তিন লক্ষ মিলিটারি পশ্চিমবাংলায় আনা হয়েছে। পশ্চিমবাংলার বাসিন্দারা কি তাহলে সন্ত্রাসবাদী? কেজরিওয়ালের স্পষ্ট বক্তব্য, এই ভাবেই ভোট জিততে চাইছে বিজেপি।

ইডি, সিবিআই, নির্বাচন কমিশন সবাইকে লাগিয়ে দিয়ে এই ভাবেই ভোট জিততে চাইছেন মোদী। কেজরীওয়ালের মতে, বিজেপি দিল্লিতেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্রত্যেক মহিলার একাউন্টে আড়াই হাজার টাকা করে পাঠানোর। আজও পর্যন্ত একটা টাকাও কোনও মহিলার অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। যদি এখানকার জনগণ ভুলবশত বিজেপিকে ভোট দেয় তবে মহিলারা যে দেড় হাজার টাকা করে প্রতি মাসে পাচ্ছে সেটাও ২৪ ঘন্টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে বলে দাবি করেন কেজরীওয়াল।

এই জনসভায় থেকেই তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় হিটলার, মুসোলিনি, কিম জং-এর সঙ্গে এক  তালিকায় ফেলেন মোদীকে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতে, এতদিন আমরা যে সমস্ত একনায়কদের নাম শুনেছি তাঁদের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর নাম। কারণ হিসেবে শোভনদেব বলেন, ‘মোদী নিজের স্বার্থে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছেন। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য তিনি বিভিন্ন এজেন্সি থেকে শুরু করে কমিশনকেও ব্যবহার করছেন।‘