বিশ্বভারতীতে এবার অগ্রিম টিকিট সিস্টেম, শুরু হচ্ছে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড

Viswa Bharati University Photo-SNS

দুর্গাপুজো কাটলেই শীতের আমেজ। ওই মরশুমে অনেকেই নিরিবিলি শান্তিনিকেতন ঘুরতে পছন্দ করেন ভ্রমণপিপাসুরা। তবে অনেকের অভিযোগ, বিশ্বভারতী ঘুরে দেখতে টিকিট মেলে না বহু সময়ে। এবার সেসব অভিযোগ আর কেউ করতে পারবেন না। বরং পরিকল্পনা করে এখানে ঘুরতে আসতে পারবেন পর্যটকরা। কারণ দুর্গাপুজোর পর থেকেই বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী চত্বর ঘুরে দেখার জন্য চালু হতে চলেছে অগ্রিম ই-টিকিট ব্যবস্থা। কমপক্ষে ১৫ দিন আগে থেকেই অনলাইনে টিকিট কেটে হেরিটেজ ওয়াকে অংশ নিতে পারবেন পর্যটকরা। এই খবর চাউর হতেই খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে বাঙালি মননে।

যদিও এখানে শুধু বাঙালি পর্যটকরাই আসেন এমন নয়। দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা এখানে এসে থাকেন। তাঁদের মুখ থেকেই আজও শোনা যায়, ‘টেগোরস ল্যান্ড’। হ্যাঁ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তো বিশ্বকবি ছিলেন। তবে তিনিই আবার বাঙালিদের আইকন। তাই দেশের মানুষ থেকে শুরু করে বিদেশ থেকে আসা নাগরিকরা নিরিবিলিতে কাটাতে শান্তিনিকেতন প্রাঙ্গণে শান্তি খুঁজে নিতে আসেন। এবার আগাম অনলাইনে টিকিট ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশ্বভারতীর ইতিহাস এবং ঐতিহ্য পর্যটকদের সামনে আরও আকর্ষণীয় করে তুলে ধরতে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড চালুর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজের বরাত দিতে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে বিশ্বভারতী সূত্রে খবর। এমনকী এই বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে এমন পরিকল্পনার কথা জানান উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ।

বিশ্বভারতী সূত্রে খবর, পর্যটকরা এবার থেকে পৃথকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালা, কলাভবনের আর্ট গ্যালারি এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত পাঁচটি বাড়ি দেখার টিকিট কাটতে পারবেন। এই পাঁচটি বাড়ি হল-উদয়ন, উদীচী, কোনার্ক, শ্যামলী এবং পুনশ্চ। একসঙ্গে দেখার জন্য কম্বো টিকিটের ব্যবস্থাও থাকবে। রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালায় আছে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী, পাণ্ডুলিপি এবং নোবেল পদকের রেপ্লিকা। সুতরাং ই-টিকিট ব্যবস্থা চালু হলে পর্যটকরা পরিকল্পনা করে আসতে পারবেন। রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালার কাউন্টার থেকে এখন হেরিটেজ ওয়াকের টিকিট মেলে। দুর্গাপুজোর পর থেকে অনলাইনে অগ্রিম বুকিংয়ের সুযোগ মিলবে। লাইট অ্যান্ড সাউন্ড প্রকল্পটি অবশ্য ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চালুর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তাতে বিশ্বভারতীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঐতিহ্য এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড তথ্যচিত্র ও আলো-শব্দের মাধ্যমে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা হবে।


তাছাড়া হেরিটেজ ওয়াকের জন্য মাথাপিছু টিকিট ৩০০ টাকা। পড়ুয়াদের দল থাকলে মাথাপিছু ৫০ টাকা এবং একজন পড়ুয়ার জন্য ১৫০ টাকা। বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে মাথাপিছু টিকিট ১০০০ টাকা। এক একটি দলে সর্বাধিক ২৫ জন পর্যটক থাকতে পারবেন। তাই অগ্রিম ই-টিকিট বিশেষ আকর্ষনীয়। এই বিষয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, ‘পর্যটকদের সুবিধার কথা ভেবেই অগ্রিম ই-টিকিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।’