রাত পোহালেই ১ জুলাই। নতুন মাসে এবার নতুন প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে। এই প্রকল্পের কথা বিজেপির সংকল্পপত্রে উল্লেখ করা ছিল। কেন্দ্রীয সরকার এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিল আগেই। তবে পশ্চিমবঙ্গে সেটা চালু হয়নি। রাজ্যে সরকার বদলের পর এবার তা চালু হতে চলেছে। এতে গ্রামীণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হবে। আবার জবকার্ড হোল্ডাররা কাজও পাবেন। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চলা ১০০ দিনের কাজের (মনরেগা) বদলে কার্যকর হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প। গোটা দেশে ভিবি জিরাম জি আইন কার্যকর হতে চলেছে ১ জুলাই থেকে। এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা দেবে।
এদিকে এই প্রকল্পে বদল হচ্ছে কাজের দিন, অর্থ বরাদ্দ, প্রযুক্তির ব্যবহার, নজরদারি, এবং কৃষি মরশুমে কাজের নিয়মও। রাজ্য সরকারের দাবি, প্রায় ২.৫৬ কোটি জব কার্ডধারী এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের রাষ্ট্রীয় গ্রামীণ বিকাশ সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি গিয়েছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার বৈঠক করার পর দিলীপ ঘোষ জানান, আগামী একমাসের মধ্যে নোটিফিকেশন জারি করা হয়ে যাবে। যোগ্য প্রত্যেক গ্রামীণ পরিবারের জন্য বছরে ১২৫ দিনের মজুরিভিত্তিক কাজের নিশ্চয়তা থাকছে এই প্রকল্পে। আগে ১০০ দিনের কাজ পেতেন জবকার্ড হোল্ডাররা।
অন্যদিকে এই প্রকল্পে কেন্দ্র এবং রাজ্যের অর্থের অনুপাত থাকবে ৬০:৪০। কেন্দ্রীয় সরকার দেবে ৮,৫০৮ কোটি টাকা এবং রাজ্য সরকারের অংশ ৫,৬৭২ কোটি টাকা। এই বিষয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এসআইআরে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা ভিবি জিরাম জি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। এরা আমাদের দেশের লোক নয়। কিন্তু ওই তালিকায় রয়ে যাওয়ায় এত দিন এরা সরকারি সুবিধা ভোগ করছিলেন। এবার তাঁদের নাম বাদ দিতে হবে। জল সংরক্ষণ, গ্রামীণ পরিকাঠামো, জীবিকা উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’
তাছাড়া এই প্রকল্পের সুবিধা হচ্ছে, জবকার্ড হোল্ডাররা কাজ চাইলে ১৫ দিনের মধ্যে কাজ দিতে হবে। তা না হলে বেকার ভাতা দিতে হবে। এমনকী কাজের মজুরি ১৫ দিনের মধ্যে না পেলে ক্ষতিপূরণও মিলবে। প্রত্যেক গ্রাম পঞ্চায়েতে সোশ্যাল অডিট হবে। আগে ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। এবার তা নিয়ে দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া, ‘আগে যে দুর্নীতি হয়েছে, তার তদন্ত হবে। জিরাম জি প্রকল্পে ৪০ শতাংশ খরচ বহন করতে হবে রাজ্যকে। বাজেটে যথেষ্ট বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। সুতরাং রাজ্যে টাকার সমস্যা হবে না।’