সোমবার কালিম্পং-এর ঐতিহাসিক মেলা গ্রাউন্ড সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক মুহুর্তের। হিল বিজেপির তরফে আয়োজিত এক বিশাল ‘বিজয় উৎসব’ জনসভায় দাঁড়িয়ে পাহাড়ের রাজনীতি কাঁপানো একাধিক বিস্ফোরক ঘোষণা করলেন সাংসদ রাজু বিস্তা। হাজার হাজার সমর্থকের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং এক বর্ণাঢ্য ‘রোড শো’-এর পর, জনসভা থেকে বিরোধী শিবিরকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সাংসদ রাজু বিস্তা তাঁর ভাষণে স্পষ্ট ঘোষণা করেন যে, বহুচর্চিত ও বিতর্কিত ‘চারখোল দূর্নীতি কাণ্ড’-এর ফাইল এবার নতুন করে খোলা হচ্ছে। উল্লেখ্য, রাজু বিস্তা যখন প্রথমবার পাহাড়ের সাংসদ নির্বাচিত হয়ে কালিম্পং এসেছিলেন, তখন অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার কর্মীরা তাঁর কনভয় আটকে দিয়েছিল এবং বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। জনসভা থেকেই সেই হিংসাত্মক ঘটনার বিরুদ্ধেও কড়া আইনি জবাব দেওয়ার কথা দেন সাংসদ।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ রাজু বিস্তা বিজিপিরম এবং তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। পাহাড় থেকে দুর্নীতি উপড়ে ফেলতে বিজেপি সরকার বদ্ধপরিকর এই দাবি করে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল জমানায় পাহাড়ে যে সমস্ত বেআইনি বহুতল নির্মাণ এবং জমি দখল হয়েছে, তার উপর এবার সরাসরি বুলডোজার চালানো হবে। শিলিগুড়ির জন্য এক ডজন এবং পাহাড়ের জন্য আরও এক ডজন জেসিবি ইতিমধ্যেই এসে পৌঁছেছে।‘ এছাড়াও, নদীতে বেআইনি ক্রাশার মেশিন চালানো বন্ধ করা, স্কুলের জমি দখল করে তৈরি শপিং কমপ্লেক্সের কড়া হিসেব নেওয়া এবং কালিম্পং জেলা হাসপাতালের অনিয়মের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সতর্ক করার কথাও জানান তিনি।
রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি কালিম্পংবাসীর জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন সাংসদ। কালিম্পং-এর মানুষের জন্য বর্তমানে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প চালু রয়েছে। খুব শীঘ্রই আরও ১৮০ কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প আসতে চলেছে। পাহাড়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করার আশ্বাস দেন তিনি।
এদিনের ঐতিহাসিক জনসভায় নবনির্বাচিত বিধায়ক ভরত ছেত্রীর জয় উদযাপন করার পাশাপাশি শহিদ পরিবারগুলিকে সম্মান জানানো হয়। নবনির্বাচিত বিধায়ক ভরত ছেত্রীকে উদ্দেশ্য করে রাজু বিস্তা বলেন, ‘এখন আর মুখে কথা নয়, কাজ করার সময় এসেছে।‘ তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, আগামী দিনে পাহাড়ের রাজনীতি শুধু কথায় নয়, সম্পূর্ণ উন্নয়নমুখী কাজের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। কালিম্পং-এর এই বিশাল জনসভা এবং সাংসদ রাজু বিস্তার এই আক্রমণাত্মক মেজাজ আগামী দিনে পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।