কলকাতা সফরে এলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এখানে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন রেলমন্ত্রী। কিন্তু রাজ্যে এসে মেট্রোতে সফর করলেন তিনি। এমনকী অটোতে চড়ে ঘুরে বেড়ালেন। যা দেখে নিজের চোখকেই অনেকে বিশ্বাস করতে পারলেন না। খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সাধারণ যাত্রীর মতো মেট্রো-অটোতে সফর করছেন! তখন বহু নিত্যযাত্রী রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথাও বলেন। এই ব্যতিক্রমী সফর নজির সৃষ্টি করল। এমনকী নবান্নে যাওয়ার পথে রেলমন্ত্রী যে উপায়ে যাত্রা করলেন তা এখন সমাজমাধ্যমে ভাইরাল।
এদিকে কলকাতা সফরে এসে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জয় হিন্দ স্টেশন থেকে নোয়াপাড়া স্টেশন পর্যন্ত কলকাতা মেট্রোতে ভ্রমণ করলেন এবং সহযাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও মেট্রো পরিষেবা সম্পর্কে মতামত জানতে তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তা বললেন। মেট্রো স্টেশনে মন্ত্রী সাফাইকর্মীদের সঙ্গেও দেখা করেন এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। সাফাইকর্মীরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন যে, রেলমন্ত্রী সরাসরি তাঁদের উদ্বেগ ও পরামর্শগুলি শুনেছেন।
অন্যদিকে মেট্রো যাত্রীদের সঙ্গে মেট্রোর পরিষেবা নিয়ে কথা বলেছেন। যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন পরিষেবা নিয়ে। আর নোয়াপাড়ায় নামার পরও প্রচলিত ভিআইপি ব্যবস্থার পথে হাঁটেননি রেলমন্ত্রী। মেট্রো স্টেশন থেকে তিনি অটোতে ওঠেন। নোয়াপাড়া থেকে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত অটোতে ভ্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন রেলমন্ত্রী। এই যাত্রা জ্বালানি সাশ্রয় এবং গণপরিবহনের বেশি ব্যবহার করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের জনগণের সেবা করার জন্য বিজেপির ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ নীতির ক্ষমতায় আসার বিষয়টিকেও প্রতিফলিত করেছে।
এছাড়া নবান্নে পৌঁছে রেলমন্ত্রী বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। বৈঠকের পর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়ে দেন, শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি পর্যন্ত চলবে বুলেট ট্রেন। তাও মাত্র ৬ ঘণ্টায়। রেলমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘বাংলার মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করতে আগের সরকার শুধু আদালতে যেত রেল প্রকল্পের কাজ আটকাতে। কিন্তু এখন থেকে সেটা আর হবে না। তার জন্য বাংলার মানুষকে ধন্যবাদ। এবার হাত খুলে, মন খুলে কাজ করা যাবে। আধুনিকীকরণের অঙ্গ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে মোট ১০২টি ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ তৈরি করা হবে। ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস তৈরি হবে। রাজ্যজুড়ে ৫৩৮টি নতুন ফ্লাইওভার এবং আন্ডারপাস তৈরি করবে রেল।’