সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে ফর্ম-৬ দিয়ে আবেদন শুরু হয়েছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় তথা শেষ দফা ২৯ এপ্রিল। এই নির্বাচনে সব ভোটার আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় অনিশ্চয়তা। কারণ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় এখনও বহু ভোটারের নাম বিবেচনাধীন অবস্থায় রয়েছে। ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাঁদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে বুধবার স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, গত ২৭ মার্চ পর্যন্ত জমা পড়া ফর্ম-৬-ই কেবল খতিয়ে দেখা হবে। তার পর জমা পড়া আবেদনগুলি এবারের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়সীমার পর আবেদনকারীরা এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। কমিশন আরও জানিয়েছে, কোনও নাম তালিকায় ওঠার পর যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তবে সেই অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময় দিতে হবে। ফর্ম-৬ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অন্তত দশ দিন সময় লাগে। ফলে শেষ মুহূর্তে নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াও সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া ৬ এপ্রিলের পর নতুন করে আর কোনও ভোটার তালিকা তৈরি করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেছে কমিশন। ফলে ওই তারিখ পর্যন্ত যাঁদের নাম তালিকায় উঠবে, তাঁরাই কেবল ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। শীর্ষ আদালতে চলা এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতেও কমিশন জানিয়েছে, ৬ এপ্রিল রাত ১২টার মধ্যে সমস্ত নিষ্পত্তি সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। সেই অনুযায়ী ৭ এপ্রিলের মধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪৭ থেকে ৪৮ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার থেকে ট্রাইব্যুনালের কাজও শুরু হওয়ার কথা। আপাতত জোকায় ট্রাইব্যুনালের জন্য জায়গা নেওয়া হয়েছে ৮ সপ্তাহের জন্য। প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে এই কাজ একই জায়গায় চলবে, নাকি অন্যত্র সরানো হবে, তা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ফর্ম-৬ নিয়ে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও তুলেছে নির্বাচন কমিশন। তাদের দাবি, কিছু মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। কমিশনের বক্তব্য, কারও নাম বাদ পড়লে সেটিকে ধর্ম বা জাতিগত ইস্যু হিসেবে দেখার কোনও কারণ নেই।
তৃণমূলের তোলা অভিযোগের প্রসঙ্গেও কমিশন প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। ভবানীপুরের এক ভোটারের নাম অন্য রাজ্যের তালিকাতেও ছিল বলে দাবি করে কমিশন জানায়, এ ধরনের ক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগ ছাড়া তারা পদক্ষেপ করতে পারে না। শুধুমাত্র মৌখিক অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয় বলেই সাফ জানিয়েছে তারা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিক থেকেও কড়া প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে কমিশন। বর্তমানে রাজ্যে ৮০ হাজারের বেশি বুথ রয়েছে, যা আরও বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ইতিমধ্যেই ২৪০০ কোম্পানি বাহিনীর পাশাপাশি আরও প্রায় ১২৫ কোম্পানি আনার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে— ভোটার তালিকা ও তার স্বচ্ছতা এবারের নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে।