মঙ্গলবার রাতে উলুবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ ১০ কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছিলেন। এবার বুধবার নতুন করে আরও ৯ জন কাউন্সিলার পদত্যাগ করলেন। আর এই নিয়ে পুরসভার ৩২ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৯ জন পদত্যাগ করার জেরে কার্যত পুরবোর্ড ভেঙে গেল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে একাধিক পঞ্চায়েত-পুরসভায় জনপ্রতিনিধিদের পদত্যাগের হিড়িক পড়ে গিয়েছে। সেটা থেকে ব্যতিক্রম নয় উলুবেড়িয়া পুরসভা। বুধবার ইস্তফা দিলেন পুরসভার আরও ৯ জন তৃণমূল কাউন্সিলর। যার ফলে হাওড়া জেলার এই পুরসভার নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে গেল।
বুধবার বিকেলে মহকুমাশাসকের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন ৯ জন কাউন্সিলর। তাঁদের মধ্যে আছেন ভাইস চেয়ারম্যান ইনামুর রহমানও। সুতরাং মাত্র দু’দিনে পদত্যাগী কাউন্সিলরের সংখ্যা বেড়ে হলো ১৯। কেন এমন পদত্যাগ? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সেভাবে কেউ মুখ খুলতে নারাজ। একের পর এক পুরসভা থেকে কাউন্সিলরদের পদত্যাগ করার ঘটনায় পুর-পরিষেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন না। তার উপর এখন বর্ষাকাল চলছে রাজ্যে। সেখানে পুর প্রতিনিধিরা পদত্যাগ করার ফলে কাজকর্ম শিকেয় উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে পুরসভাগুলির অন্তর্গত এলাকাগুলিতে জল জমে থাকছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হচ্ছে না। সুতরাং সাধারণ মানুষজন চরম সমস্যার মধ্যে পড়ছেন।
আগেই পদত্যাগ করেছিলেন চেয়ারম্যান। পদত্যাগ করেছিলেন চেয়ারম্যান অভয় দাস। তিনি জল দপ্তরের চেয়ারম্যান পারিষদ ছিলেন। তখন ১০ জন কাউন্সিলরও পদত্যাগ করেছিলেন। এবার আরও ৯ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করলেন। সোমবার উলুবেড়িয়া পুরসভায় আসেন পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। তাঁর সেই বৈঠকের পরেই এই পদত্যাগের হিড়িক দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে দুটি পথ খোলা রয়েছে। এক, এই উলুবেড়িয়া পুরসভায় পুর-প্রশাসক নিয়োগ করতে হবে। দুই, এই পুরসভার জন্য নির্বাচন করতে হবে।
উল্লেখ্য, উলুবেড়িয়া পুরসভার মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৩২। তার মধ্যে সর্বশেষ নির্বাচনে একক ২৯টি আসনে জিতে বোর্ড গঠন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে, একটি করে আসনে জিতেছিল সিপিএম, কংগ্রেস এবং বিজেপি। মঙ্গলবার রাতে উলুবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান অভয় দাস সহ ১০ জন পদত্যাগ করেছিলেন। আর বুধবার আরও ৯ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করলেন। সুতরাং এই পুরবোর্ড টিকিয়ে রাখা সম্ভব হলো না। অন্যদিকে ভেঙে যাওয়া পুরসভাগুলির নির্বাচন কবে হবে সেটা এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের পক্ষ থেকে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।