বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কুলটি বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় নাম না থাকায় মুখ খুললেন দলের প্রাক্তন বিধায়ক উজ্জ্বল চ্যাটার্জি। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানালেন, ‘আমার খেলা শেষ হয়েছে। তবে দলের সঙ্গে আছি।’ তাঁর এই মন্তব্যে যেমন একদিকে আক্ষেপের সুর ধরা পড়েছে, তেমনই দলের প্রতি আনুগত্যও স্পষ্ট হয়েছে। কুলটির রাজনীতিতে এই ঘটনার প্রভাব কতটা পড়বে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
প্রসঙ্গত, এক সময় যখন পশ্চিম বর্ধমান আলাদা জেলা হয়নি, তখন অবিভক্ত বর্ধমান জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম সারির মুখ ছিলেন উজ্জ্বল চ্যাটার্জি। ২০০৬, ২০১১ এবং ২০১৬— টানা তিন বার কুলটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তিনি। সেই সময় রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকারের আমলেও তিনি তৃণমূলের অন্যতম শক্তিশালী মুখ হিসেবে উঠে আসেন।
তবে ২০২১ সালের নির্বাচনে তাঁর ভাগ্য সহায় হয়নি। অল্প ব্যবধানে প্রায় ৬০০ ভোটে পরাজিত হন তিনি। এই পরাজয়ের জন্য দলের গোষ্ঠীকোন্দলকেই দায়ী করে একাধিকবার প্রকাশ্যে ক্ষোভও উগরে দেন উজ্জ্বল বাবু। তারপরও থেমে থাকেননি তিনি। গত পাঁচ বছরে দলকে শক্তিশালী করতে নিয়মিত কর্মীসভা, মিছিল ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এলাকায় তাঁর সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো।
কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তিন বারের বিধায়ক এবং চার বারের কুলটি পুরসভার চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও দল তাঁকে প্রার্থী করেনি। এই প্রসঙ্গে উজ্জ্বল চ্যাটার্জি বলেন, ‘দল যেটা ঠিক মনে করেছে, সেটাই করেছে। আমার খেলা হয়তো শেষ, কিন্তু আমি দলের সঙ্গে আছি এবং থাকব।’