যাত্রীবোঝাই বাস উলটে গেল আরামবাগে, দুজন মহিলা পুণ্যার্থীর মৃত্যু

ময়নাগুড়ির রেশ কাটতে না কাটতেই আবার পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলো দুজনের। এবারের ঘটনাস্থল হুগলি জেলার আরামবাগ। তারকেশ্বরে শিবের মাথায় জল ঢালতে যাচ্ছিলেন পুণ্যার্থীরা। কিন্তু তার আগেই ঘটে গেল পথ দুর্ঘটনা। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবোঝাই বাস উলটে যেতেই ঘটল মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। আর তার জেরে মৃত্যু হলো দুজন পুণ্যার্থীর। আর আহত হয়েছেন একাধিক যাত্রী। মঙ্গলবার আরামবাগের আদমবাঁধ এলাকায় এখন এটাই চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

এই পথ দুর্ঘটনার জেরে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আদমবাঁধ এলাকায়। ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে হাজির হয়। সকলকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই দুজন মহিলা পুণ্যার্থীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। আহতদের চিকিৎসা চলছে। কেন এমন পথ দুর্ঘটনা ঘটল? তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথাও বলেছে পুলিশ। প্রত্যেকের পরিচয় জেনে পরিবারকে খবর দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার বর্ধমানের দিক থেকে বর্ধমান-তারকেশ্বর রুটের বাসটি আসছিল। ওই বাসে ৪০-৫০ জন যাত্রী ছিলেন। আরামবাগের আদমবাঁধ এলাকায় ওই বাসের পাতি ভেঙে গিয়ে রাস্তার পাশে নয়ানজুলিতে উলটে যায়। আর তাতেই পথ দুর্ঘটনা ঘটে। আর সেই খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে ছুটে আসেন। উদ্ধার করতে চেষ্টা করেন। আর খবর দেন পুলিশে। পুলিশ এসে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস থেকে যাত্রীদের উদ্ধার কাজ শুরু করেন। সেখানেই দুই মহিলার মৃত্যু হয়েছে।


পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদের নাম লক্ষ্মী মুর্মু (৬৫) এবং শর্মিলা সোরেন (৩৫)। তাঁদের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের ধাড়ান এলাকায়। তাঁরা তারকেশ্বরে শিবের মাথায় জল ঢালার জন্য যাচ্ছিলেন। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর তুলে দেওয়া হবে পরিবারের সদস্যদের হাতে। আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এই পথ দুর্ঘটনার জন্য রাস্তার বেহাল অবস্থাকেই দায়ী করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একাধিকবার রাস্তা মেরামতির আবেদন করা হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। তবে এই দুর্ঘটনার পাশাপাশি সময়মতো উদ্ধারকাজ শুরু না হওয়ায় আরও ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয়রা।