তখন বিরোধী দলে ছিল বিজেপি। বাংলার ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেই সময় দলের হয়ে প্রচারে এসেছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতা জেপি নাড্ডা। আর তখন তাঁর কনভয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। যার জেরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এই হামলার পর তাঁকে কটূক্তিও শুনতে হয়েছিল। এই ঘটনার ৬ বছর কেটে গিয়েছে। এখন রাজ্যে বিজেপি সরকার। তাই তখন যারা হামলা চালিয়েছিল সেই দু’জন তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই দুই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ তখন জানিয়েছিল বিজেপি। সুতরাং অপরাধ নথিভুক্ত ছিল। তাই এখন তারা গ্রেপ্তার হয়েছে।
জেপি নাড্ডা এখন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আগেও তিনি দলের পদাধিকারী ছিলেন। তাই তাঁর কনভয়ে হামলা করে বেঁচে যাওয়ার কোনও কারণ নেই। সময় কেটে গিয়েছে প্রায় ৬ বছর। কিন্তু তাতে অপরাধ মুছে যায়নি। তাই এবার ওই হামলার ঘটনায় দুই তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃত দুই তৃণমূল নেতা হল, রিপন শেখ এবং সঞ্জীব মণ্ডল। দু’জনকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সুতরাং তারা যে অপরাধী সেটা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। এই দু’জনের নাম পুলিশও জানত। কিন্তু তখন রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এখন রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের শাসন কায়েম করা হচ্ছে। তাই কোনও অপরাধীকে ছাড়া হচ্ছে না। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত রিপন শেখ এবং সঞ্জীব মণ্ডল এলাকায় তৃণমূল করত। একইসঙ্গে নানা অসামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকত দু’জনে। এই এলাকায় বাইক বাহিনী তৈরি করেছিল তারা। আর সন্ত্রাস চালাত বলে অভিযোগ রয়েছে দু’জনের বিরুদ্ধে। জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনায় তারা জড়িত ছিল বলেই প্রমাণ মিলেছে। তবে এই দু’জন জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার সময় কেমন ভূমিকা নিয়েছিল সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগ্নেয়াস্ত্র তাদের কাছে কেমন করে এল তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আর কেউ যুক্ত ছিল কিনা সেটাও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
তাছাড়া ২০২০ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যখন যাচ্ছিলেন জেপি নাড্ডা তখন শিরাকোলের কাছে তাঁর কনভয়ে হামলা হয়েছিল। তখন তাঁর সঙ্গী ছিলেন রাজ্য বিজেপির দুই প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং সুকান্ত মজুমদার। ওই মামলায় প্রথম এফআইআরে নাম ছিল জাহাঙ্গিরের। কিন্তু শাস্তির ফাঁক গলে আবার দাপট দেখাতে শুরু করেছিল জাহাঙ্গির। ওই পুরনো মামলায় তদন্ত শুরু হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাতেই নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হল।