নদিয়ার কালীগঞ্জের তামান্না হত্যাকাণ্ডে আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে সাবির শেখ ও জিয়ারুল শেখকে আটক করা হয়। বুধবার তাঁদের আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। এই দুই গ্রেপ্তারির ফলে মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ জুন উপনির্বাচনের জয়ের পর তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে বোমা ছোঁড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই বোমার আঘাতেই প্রাণ হারায় ছোট্ট তামান্না।
মঙ্গলবার বিধানসভায় এই ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তামান্নার পরিবারও ন্যায়বিচার পাবে। তিনি জানান, রামপুরহাট, হাঁসখালি, কসবা ল কলেজন, কামদুনি ও ধূপগুড়ির মতো ঘটনাগুলির ক্ষেত্রেও সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, তামান্নার মা তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছেন।
জানা যায়, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। মেয়ের মৃত্যুর এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না মেলায় তিনি ফের দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরই পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালায়। সেই অভিযানে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা সাবির শেখ ও জিয়ারুল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তামান্নার মা জানান, ব্যস্ততার মধ্যেও মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের কথা মন দিয়ে শুনেছেন এবং দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। এরপরই দুই অভিযুক্তের গ্রেপ্তার হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি, অপরাধীরা লুকিয়ে নেই, পুলিশ ওদের লুকিয়ে রেখেছে। তৃণমূল নেতারা এর পিছনে ছিল। প্রশাসনই অপরাধীদের আড়াল করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আশ্বস্ত হয়েছিলাম, তবে এত দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে, তা ভাবিনি। বাকিরাও তাড়াতাড়ি গ্রেপ্তার হবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিক সত্যিই প্রশংসনীয়। আশা করছি তমন্না বিচার পাবে।’