শুভেন্দুর পদযাত্রায় পা মেলালেন দুই বিধায়ক

শুভেন্দু অধিকারী (File Photo: Twitter/@AITCofficial)

আশঙ্কা হলাে সত্যি। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরিতে হার্মাদ মুক্ত দিবসের পদযাত্রা থেকেও শুভেন্দুর মুখে শােনা গেল না রাজনীতির বােল। উল্টে খেজুরীর বিগত দিনের ইতিহাস শােনা গেল তাঁর মুখে। এড়িয়ে গেলেন রাজনৈতিক প্রসঙ্গ। মুখে নেই দল তৃণমূল কংগ্রেস ও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও। উল্টে মিছিলের পেছনে থাকা মানুষজনের মুখে শােনা গেল, শুভেন্দুদা এগিয়ে চলাে খেজুরিবাসী সঙ্গে আছে। 

গত ১০ নভেম্বর নন্দীগ্রামের শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে শুভেন্দুর গলায় শােনা গিয়েছিল, আমি এই পবিত্র মঞ্চ থেকে রাজনীতির কথা বলবােনা। রাজনীতির মঞ্চে রাজনীতির কথা বলবাে। আর সেই আশঙ্কা একেবারে সত্যি করে মঙ্গলবার খেজুরির পদ্যাত্রাতেও শুভেন্দুর মুখে শােনা গেল না কোনাে রকম রাজনৈতিক বক্তব্য। 

এদিন খেজুরির হার্মাদ মুক্ত দিবসের বর্ষপূর্তিতে বাঁশগােড়া থেকে কামারদা পর্যন্ত পদাত্রা করেন শুভেন্দু অধিকারী। হাতে ছিল না দলের পতাকাও। উল্টে শুভেন্দুর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা রয়েছে, ২৪ নভেম্বর খেজুরি হার্মাদ মুক্ত দিবস পালন করুন। প্রায় তিন কিলােমিটার পদ্যাত্রা শেষে পথসভা করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে ক্ষুদ্র বক্তব্য রাখেন তিনি। আর সেই বক্তব্যের মধ্যেও ছিল না কোনাে রাজনৈতিক প্রসঙ্গের উল্লেখ। 


এদিন শুভেন্দু পদযাত্রা শেষে তিনি তার ক্ষুদ্র বক্তব্যে খেজুরির পুরােনাে দিনের কথা মনে করিয়ে বলেন, কামারদাতে যেখানে হার্মাদ বাহিনী ছিল সেখানে আমি এসেছিলাম। বন্দুক ছিল টেবিলের ওপরে। হার্মাদ বাহিনীর নেতারা হতচকিত হয়ে গিয়েছিলেন। আমি মনের জোরকে সম্বল করে তাড়া করেছিলাম। সেই তাড়া করার ১৫-২০ মিনিট পরে পিলপিল করে জনতা আমার সঙ্গ দিতে শুরু করেছিল। বেলা আড়াইটার সময় দেউলপােতা হয়ে ওড়িশা কোষ্ট ক্যানেল পেরিয়ে হার্মাদ বাহিনী সুনিয়ার চরে গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং খেজুরি হার্মাদ মুক্ত হয়। সেই গণতন্ত্র, সেই স্বাধীনতা, সেই শান্তি বজায় থাকুক এইটুকু প্রার্থনা করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সকলে ভালাে থাকি, একসঙ্গে থাকি, মানুষের মঙ্গলে কাজ করি এবং এই শান্তি, এই গণতন্ত্র, এই বাক স্বাধীনতা চিরস্থায়ীতে পরিণত হােক এই প্রার্থনা করি। আমি ২০১০-এ এসেছিলাম। ২০১১ থেকে ২০১৯ পর্যান্তও এসেছিলাম এবং আজকেও এলাম। 

এদিনের শুভেন্দুর পদযাত্রায় প্রায় কয়েক হাজার মানুষ পা মেলান। পদযাত্রায় শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রণজিৎ মন্ডল, বনশ্রী মাইতি, খেজুরির ভূমিকন্যা মধুরিমা মন্ডল সহ অন্যান্যরা।