১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে, রাজি না হওয়ায় দুই গ্যারেজ কর্মীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ

CCTV Footage Photo-SNS

দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে চাঁদার জুলুম করা যাবে না। আর তা রুখতে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু ঘটনা ঘটল সম্পূর্ণ বিপরীত। মোটা টাকা চাঁদার দাবিতে মারধরের অভিযোগ উঠল বারুইপুরের খাসমল্লিক সংলগ্ন এলাকার একটি গ্যারেজে। ১৫ হাজার টাকা চাঁদা চেয়ে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক পুজো কমিটির বিরুদ্ধে। চাঁদার জুলুমের শিকার হলেন দুই গ্যারাজ কর্মী। ১৫ হাজার টাকা তাঁরা দিতে পারবেন না জানানোয় তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্তরা।

গ্যারেজ কর্তৃপক্ষ এক হাজার টাকা চাঁদা দিতে রাজি ছিল। কিন্তু ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। আর সেই টাকা দিতে না পারায় দলবল নিয়ে এসে গ্যারেজের দুই কর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় আহত দুই শ্রমিক বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন গ্যারেজের মালিক ও কর্মীরা। আগে রাজ্যের নানা জায়গায় চাঁদার জুলুমের অভিযোগ উঠেছে। দুর্গাপুজো, কালীপুজো থেকে শুরু করে সরস্বতী পুজোতেও চাঁদা চেয়ে ‘দাদাগিরি’র ঘটনা ঘটেছে। পরিবর্তনের বাংলায় চাঁদার জুলুম চলবে না বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেও চাঁদার দাবিতে মারধরের অভিযোগ উঠল বারুইপুরে বলে অভিযোগ।

দুর্গাপুজোর মরশুমে এভাবে চাঁদার চাপ এবং মারধরের অভিযোগ ঘিরে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। ভয়মুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করতে পারবেন তো ব্যবসায়ীরা? এমন প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। এই চাঁদার জুলুমবাজির অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। আহত গ্যারেজে দুই শ্রমিক মধু মণ্ডল এবং পিন্টু চৌধুরী আতঙ্কিত হয়ে রয়েছেন। এই অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা থেকে শুরু করে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত সেটা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত যারা তাদের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


তাছাড়া এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন গ্যারেজের মালিক এবং শ্রমিকরা। এভাবে চললে কাজ করা সম্ভব নয় বলে তাঁরা জানিয়েছেন। এই ঘটনার প্রসঙ্গে পিন্টু চৌধুরী বলেন, ‘জোর করে ট্যারা ব্যাঁকা কথা বলছিল। তারপর চাঁদা কেটে নিয়ে চলে যায়। মারধর করেছে। ধাক্কা মেরেছে।’ আর মধু মণ্ডলের অভিযোগ, ‘আগের দিন ওরা এসে চাঁদার ১৫ হাজার টাকা বিল দিয়ে যায়। আমরা হাজার টাকা দিতে চাইলে সেটা নিতে চায়নি। উল্টে আমাদের প্রত্যেকের নামে আলাদা বিল করে ১৫ হাজার টাকা চায়। দিতে পারিনি বলে মারধর করেছে। আমরা থানায় সব জানিয়ে এসেছি। সিসিটিভি ফুটেজও আছে।’