‘বীরগাঁথা ৫.০’ প্রতিযোগিতায় সেরার সেরা বীরভূমের দুই কন্যা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির রাজপথে দেশের সেরা কৃতীদের তালিকায় জায়গা করে নিয়ে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকতে চলেছে বীরভূমের দুই স্কুলছাত্রী, প্রত্যুষা পাল ও আয়রা হোসেন। নলহাটির এই দুই পড়ুয়ার সাফল্যে গর্বিত দুই পরিবার সহ এলাকার বাসিন্দারা। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বীরগাঁথা ৫.০’ প্রতিযোগিতায় দেশের প্রায় দুই লক্ষ প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে ভারতের সেরা ১০০ জনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে তারা।

প্রত্যুষা নলহাটির আটগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। অন্যদিকে আয়রা হোসেন পড়াশোনা করে নলহাটিরই একটি বেসরকারি স্কুলে। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা ও শিক্ষা মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার মূল বিষয় ছিল দেশের বীর সেনানীদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার কাহিনী। পড়ুয়াদের কবিতা, প্রবন্ধ বা ছবির মাধ্যমে সেই গল্প তুলে ধরতে হয়েছিল প্রতিযোগিতায়। সেই মঞ্চেই নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে প্রত্যুষা ও আয়রা।

বিভাগ অনুযায়ী ফলাফলেও নজর কেড়েছে তাদের সাফল্য। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বিভাগে সারা দেশের মধ্যে সেরা ২৫ জনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে আয়রা। অন্যদিকে নবম-দশম শ্রেণির বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে প্রত্যুষা। সম্প্রতি শিক্ষা দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের কাছে এই সাফল্যের খবর পৌঁছায়। এই কৃতিত্বের পুরস্কার হিসেবে ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির রাজপথে আয়োজিত কুচকাওয়াজে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছে তারা। শুধু তাই নয়, সামনে বসে কুচকাওয়াজ দেখার সুযোগও পাচ্ছে দুই ছাত্রী ও তাদের পরিবার।


আয়রার মা শিরিন সুলতানা ও প্রত্যুষার বাবা বিশ্বজিৎ পাল আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা কখনও দিল্লি যাইনি। রাজপথের কুচকাওয়াজ দেখা আমাদের কাছে স্বপ্নের মত ছিল। আজ সেই স্বপ্ন মেয়েদের হাত ধরেই পূর্ণ হতে চলেছে।‘ বীরভূমের দুই কন্যার এই সাফল্যে গর্বিত গোটা জেলা।