আদিবাসী মহিলাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে দুই অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

Photo: Representational Image

পূর্ব বর্ধমান জেলার দেওয়ানদিঘি থানার অন্তর্গত পালিতপুর ক্যানেলপাড় এলাকায় এক আদিবাসী গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। এবার ওই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা  কাটতে না কাটতেই পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু ওই মৃত আদিবাসী গৃহবধূর বাড়িতে যান।

মৃতার পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে গণধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।  তারই মাঝে অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তে নেমে পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার  করেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে পাঁচ সদস্যের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দল।

এদিকে ওই নৃশংস ঘটনার খবর পেয়ে  মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বৃহস্পতিবার দুপুরে বর্ধমানের পালিতপুরে মৃত ওই গৃহবধূর বাড়িতে যান মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। তিনি পরিবারের লোকজনের কাছে সেদিনের ঘটনার কথা শোনেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা সহ অন্যান্য নেতারা। তাঁরা পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার পালিতপুর ক্যানেল সংলগ্ন একটি মাঠ থেকে ২৮ বছর বয়সি আদিবাসী গৃহবধূ রানি হেমরমের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। যদিও তাঁর শ্বশুরবাড়ি দিঘিরপাড়ে।  তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বাপের বাড়ি পালিতপুরে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছিলেন।পরিবারের দাবি,  ওই দিন বিকেলে স্বামীকে খুঁজতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন রানি হেমরম।

পরে তাঁর স্বামী বাড়ি ফিরে জানতে পারেন, স্ত্রী তাঁর খোঁজেই বেরিয়েছিলেন। এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর পালিতপুর ক্যানেল সংলগ্ন মাঠে তাঁর রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

মৃতার পরিবারের অভিযোগ, রানি হেমরমকে প্রথমে গণধর্ষণ করা হয় এবং পরে খুন করে দেহ ফেলে দেওয়া হয়েছিল। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।  পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের ২৪ ঘণ্টার পরই দুই অভিযুক্তকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের নাম সেখ আজিজুল ও সেখ ভদাই। পুলিশ জানিয়েছে, সেখ আজিজুলকে দেওয়ানদিঘি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার  করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত শেখ ভদাইকে বীরভূমের নানুর এলাকা থেকে আটক করে, পরে  গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, খুন এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তাঁদের বর্ধমান জেলা আদালতে তোলা হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ, অপরাধ সংঘটনের পরিস্থিতি এবং অন্য কোনও ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে তদন্তে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পাঁচ সদস্যের ফরেন্সিক দল। বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। ফরেন্সিক রিপোর্ট, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।   পুলিশের দাবি, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।