অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা বিজয় বড় রাজনৈতিক স্বপ্ন নিয়েই এগোচ্ছেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন তাঁর নতুন দল তামিলাগা ভেটরি কাঝাগাম (টিভিকে)। শুরু থেকেই জল্পনা ছিল ডিএমকের সঙ্গে সম্ভাব্য জোট নিয়ে, তবে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে আসন্ন তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দলের লক্ষ্য স্পষ্ট—সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসতে চান বিজয়।
রবিবার তিনি ২৩৪টি আসনের সম্পূর্ণ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছেন। পেরাম্বুর এবং ত্রিচি ইস্ট—এই দুই কেন্দ্র থেকে নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সময় বিজয় বলেন, এটি শুধুমাত্র নাম ঘোষণা নয়, বরং জনগণের ‘রক্ষক’দের সামনে আনা। তাঁর দাবি, টিভিকে-র প্রার্থীরা সাধারণ মানুষ, কোনও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ‘হেভিওয়েট’ নন। জনগণের কাছে পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, একবার সুযোগ পেলে তাঁর দলের প্রতীক ‘হুইসেল’-এর মাধ্যমেই রাজ্যে উন্নয়নের বিপ্লব ঘটবে।
এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমশ জটিল হচ্ছে। একদিকে এআইএডিএমকে ও বিজেপি-র জোট, অন্যদিকে টিভিকে-র একক লড়াই। পাশাপাশি এস রামদোস-এর পিএমকে এবং শশীকলা ঘনিষ্ঠ শিবিরের জোট মিলে চারমুখী প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
ভোটের আগে বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিতর্ক কম হয়নি। স্ত্রী সঙ্গীতার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা এবং অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—ব্যক্তিগত বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে রাজনীতিতেই তিনি সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করতে চান।প্রচারে তিনি একাধিক জনমুখী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেমন—প্রতি পরিবারকে বছরে ছয়টি গ্যাস সিলিন্ডার এবং মহিলাদের জন্য মাসিক ২৫০০ টাকার ভাতা। তাঁর এই প্রতিশ্রুতি কতটা মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে, তার উত্তর মিলবে ভোটের ফলেই।