টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ২৮ কোটি নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। বীরভূমের ‘পাথর ব্যবসায়ী’ টুলু মণ্ডলের দুর্নীতির পর্দাফাঁস হতেই সকলের চোখ কপালে উঠেছিল। এই দুর্নীতির সঙ্গে যে বা যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কড়া ‘পদক্ষেপ’ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কাজলের বাড়িতে হানা দিল বীরভূম জেলা পুলিশের টিম। সেখানে চলে তল্লাশি। আউশগ্রামের ভেদিয়ার পাথর ব্যবসায়ী মুর্শিদ কালাম মণ্ডল ওরফে কাজলের বাড়িতে বীরভূম জেলা পুলিশের অভিযান নিয়ে এখন সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য-রাজনীতি। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আউসগ্রাম থানার পুলিশও।
এদিকে সোনাঝুরির জঙ্গলের পিছনে একটি বাড়িতে হানা দিয়ে টুলু মণ্ডল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তিনজনকে গ্রেপ্তার করল শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ। এমনকী অভিযান চালিয়ে একটি দামি গাড়িও আটক করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। এই টুলু মণ্ডল তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রেখে গা-ঢাকা দিয়েছে। বিদেশে আছেন এই ব্যবসায়ী বলে সূত্রের খবর। আর অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ টুলু মণ্ডল বলেই সামনে এসেছে। টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তির বিবরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘টুলু মণ্ডলের নানা অ্যাকাউন্টে থাকা ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছি। নগদ ৫৩ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছি। ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো এবং ৬৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম। ৩টি টাকা গোনার মেশিন, ১ কম্পিউটার ও সিপিইউ, ২টি পেনড্রাইভ মিলেছে। ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার। বিএমডব্লিউ, অডি মিলিয়ে মোট ২৪২টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মোট ২১টি সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। তার মধ্যে রয়েছে ৭টি বাড়ি, ১টি ফার্মহাউস, ২টি পেট্রল পাম্প, ১টি পার্কিং, ২টি ক্রাশার। সবমিলিয়ে ৩০০ বিঘা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে।’
অন্যদিকে টুলু মণ্ডলের তদন্ত যে থামেনি তা সোমবারের ঘটনায় পরিষ্কার হয়ে গেল। স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন সোনাঝুরি জঙ্গলের পিছনে ওই বাড়িতে বেশ কিছুদিন ধরেই তিনজন থাকছিল। তাঁদের টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিতি রয়েছে। এলাকায় সবাই তাই জানেন। এদিন ওই বাড়িতেই হানা দেয় পুলিশ। তারপর শুরু হয় তল্লাশি। সেখান থেকেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তখনই নজরে আসে আরও একটি গাড়ি। তাতে তল্লাশি চালানো হয়। বাড়িটির ঠিক বিপরীত দিকে একটি ঘেরা জায়গায় বেশ কয়েক মাস ধরে পড়ে ছিল ওই দামি গাড়ি। ওই গাড়িটি টুলু মণ্ডলের শ্যালক মহম্মদ শামসুর আলমের। দীর্ঘদিন ধরে সেটি ওই জায়গায় পড়ে রয়েছে বলেও সূত্রের খবর। উল্লেখ্য, আত্মীয় মিনার মণ্ডল তদন্তকারীদের আগেই জানিয়েছিলেন, এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি তাঁর নয়। সবই টুলু মণ্ডলের। তাঁর কাছে রাখতে দেওয়া হয়েছিল। দুবাই থেকে বেআইনি পথে সোনার বিস্কুট এখানে আনা হয়েছিল। তবে কোন পথে সোনা এবং নগদ এসেছিল এই দেশে সেটা খুঁজছে তদন্তকারীরা।
তাছাড়া বীরভূমের বহুচর্চিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল এখনও অধরা। গত সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর আইনজীবী। নিজের নিরাপত্তা এবং আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতে মামলা করার অনুমতি চেয়েছিলেন টুলুর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে সেটি উত্থাপন করা হলে মামলা দায়েরের অনুমতি দেন বিচারপতি। চলতি সপ্তাহেই ওই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। কদিন আগে বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার দেউচা এলাকায় টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছিল নগদ প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ১৫ কেজি সোনা। এই ঘটনার পর বীরভূম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে টুলু মণ্ডলের নাম রয়েছে। তবে টাকা ও সোনা উদ্ধারের পর থেকেই তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি।