তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। শনিবার এক সংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল এখন কেবল নামেই টিকে আছে, পতন হওয়া সময়ের অপেক্ষা। তাঁর মতে, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসেরর অস্তিত্ব মুছে যাবে। রবিবার শিলিগুড়িতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা বলেন তিনি। এদিন কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছে সেবক রোডের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সেখানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতি ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা দেন তিনি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত মজুমদার তীব্র ভাষায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান যে অবস্থা, তাতে আগামী দিনে এই দলটি কোথায় থাকবে? সংগ্রহশালায়, রাস্তায় নাকি দলের অফিসের ভেতরেই থাকবে—তা সময় এলেই বোঝা যাবে।‘ তিনি আরও দাবি করেন, ‘দলের অনেক নেতাই এখন পরিস্থিতির চাপে দিশেহারা এবং দল ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন।‘
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, ‘রাহুল গান্ধী কী বললেন, তাতে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর নিজের দলের লোকেরাই তাঁর কথায় ভরসা পায় না।‘ সুকান্তের পরামর্শ, ‘এখন প্রচণ্ড গরম, তাই রাহুল গান্ধীর উচিত কয়েকদিনের জন্য বিদেশ সফরে বা কোনও ট্যুরে যাওয়া। ঘুরে ফিরে এলে সুস্থ মস্তিষ্কে কথা বলতে পারবেন।‘
সাম্প্রতিক সময়ে ওঠা কিছু ধর্মীয় ইস্যু ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তার জবাবে তিনি কঠোর অবস্থান নেন। সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট করে বলেন, ‘আইন এবং সংবিধান সবার ঊর্ধ্বে। তা সম্মান করা প্রত্যেকের দায়িত্ব। যদি কেউ আইন মানতে অস্বীকার করে, তবে সরকার ও প্রশাসন আছে, তারা ঠিকই বুঝিয়ে দেবে আইন কাকে বলে এবং কীভাবে মানতে হয়।‘ ২০২৯ সালের নির্বাচনের ইঙ্গিত দিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘তৃণমূল লড়াইয়ে না থাকায় অনেক জায়গায় বামফ্রন্ট বা অন্যান্য দল মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে বাংলার মানুষ বিজেপির উপরই একমাত্র ভরসা রেখেছে। তাঁর কথায়, ‘বাংলার মানুষ আগামী ২০-২৫ বছর বিজেপিকেই ক্ষমতায় রাখবে, সেটিই মূল কথা।‘ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুকান্ত মজুমদারের এই মন্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসকে কোণঠাসা করার একটি কৌশলমাত্র। একদিকে দলীয় ভাঙন নিয়ে খোঁচা অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা ইস্যুতে তাঁর কড়া অবস্থান, রাজ্য রাজনীতির পারদ কিছুটা হলেও বাড়িয়ে দিল বলে মত অনেকের।