বর্ষবরণের রাতে পিকনিক করতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হলেন রায়গঞ্জের এক তৃণমূল নেতা। বুধবারে রাতে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত তৃণমূল নেতার নাম নব্যেন্দু ঘোষ। তিনি যুব তৃণমূলের উত্তর দিনাজপুর জেলার সহ সভাপতি। কী কারণে তৃণমূল নেতাকে খুন করা হয়েছে, এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় পুলিশ দুজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্ত দুজনের নাম শুভম পাল ও পিন্টু সাহা। ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বছরের শেষ দিনে রায়গঞ্জের মোহনবাটি বাজার সংলগ্ন এলাকায় বাড়ির কাছেই বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক করছিলেন নব্যেন্দু। অভিযোগ, সেই সময় আচমকা তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে। জানা গিয়েছে, বাইকে চড়ে কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে নব্যেন্দুর উপর চড়াও হন। এরপরেই বেধড়ক মারধর করা হয় তৃণমূল নেতাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা গুরুতর জখম নব্যেন্দুকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তৃণমূল যুবনেতার মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনাও শুরু হয়েছে। নব্যেন্দুর মায়ের দাবি, ষড়যন্ত্র করে খুন করা হয়েছে তাঁকে। তিনি বলেন,’বুধবার রাতে ও আমাকে হ্যাপি নিউ ইয়ার বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। ষড়যন্ত্র করেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। নব্যেন্দু এখন কোনও কিছু করত না। পার্টির কর্মসূচিতেও যেত না। দোকানদারি করছিল, বাড়িতে সময় দিচ্ছিল। কে শত্রুতা করে এমন করল, আমরা কিছুই জানি না।’ রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণকল্যাণী বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এই ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। ব্যক্তিগত কারণে খুন বলে মনে হচ্ছে। পুলিশ তদন্ত করছে।’ তৃণমূল নেতার মৃত্যুতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। স্থানীয় এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বুধবার রাতেই দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ করা হয়েছে।