বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে একের পর এক ভোটার তালিকা প্রকাশে বহু ভোটারের নাম বাদ যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। এসআইআরের যাচাই প্রক্রিয়া করছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। আর সেই প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ যাচ্ছে তাঁদের যেতে হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে। ট্রাইব্যুনালে গিয়ে তাঁরা আবেদন করতে পারবেন। ইতিমধ্যে অনলাইনে আবেদনগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। আর এই ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানিয়ে ফের কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকে চিঠি দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
এই চিঠিতে ট্রাইব্যুনাল নিয়ে বিশেষ কয়েকটি জিনিস উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের যেন সহজে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়। শুধু নির্দিষ্ট জায়গা নয়, জেলার বিডিও অফিস থেকেও আবেদন জমা নেওয়ার ব্যবস্থা চালুর দাবি তোলা হয়েছে। এর পাশাপাশি তৃণমূলের আবেদন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা যদি কোনও নাম বাদ দেন, তাহলে কী কারণে বাদ দেওয়া হল তার কারণ যাতে ভোটারকে জানানো হয়। যাতে পরে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সময় সেই কারণের সপক্ষে যুক্তি দিতে পারেন ভোটার।
তৃণমূলের তরফে এই চিঠিতে আরও কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইনের পাশাপাশি দ্রুত অফলাইন আপিল ব্যবস্থা চালু করার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আর্জি জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মোট ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই ট্রাইব্যুনালগুলিতে অনলাইন ও অফলাইন দুই পদ্ধতিতেই আবেদন গ্রহণের সুযোগ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে তৃণমূল।
এছাড়াও, আবেদনকারীদের সুবিধার জন্য ভার্চুয়াল ও সশরীরে শুনানির ব্যবস্থা, শুনানির তারিখ আগে থেকে জানানো, অনলাইন পোর্টালে নথি আপলোডের সুযোগ এবং অফলাইনে আবেদন জমা দিলে রসিদ দেওয়ার মতো একাধিক প্রস্তাব রাখা হয়েছে প্রধান বিচারপতিকে পাঠানো এই চিঠিতে। নির্বাচনের সময়সীমা মাথায় রেখে প্রতিদিনের ভিত্তিতে আবেদনের ফলাফল প্রকাশের দাবিও জানানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপর জোর দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রধান বিচারপতিকে চিঠি পাঠিয়েছিল তৃণমূল। এই চিঠিতেও একাধিক আর্জি জানানো হয়েছিল। যার মধ্যে অন্যতম ছিল তৃণমূলের ১১ জন প্রার্থীর নাম বিবেচনাধীন তালিকা থেকে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হোক। তা নাহলে তাঁদের মনোয়ন পেশ করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়াও আরও কয়েকটি আবেদন রেখে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এবার ফের তৃণমূলের তরফে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।