তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে লড়াকু বার্তা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতার

পয়লা জানুয়ারি পথচলা শুরু করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে নতুন দল গড়ার ডাক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন দশক পরে বাংলার ক্ষমতায় সেই দল। লড়াই আর পরিশ্রমের মিশেল হলেন তৃণমূল নেত্রী। বামফ্রন্ট সরকারের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। সাধারণ মানুষের অধিকার আর অসাম্যের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন। একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জীবন শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তিনিই বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। এই উত্তরণ তাঁর লড়াকু মানসিকতার জন্যই সম্ভব হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবসে দলীয় নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজীবন সংগ্রাম চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবারের এক্স  হ্যান্ডলের পোস্টের শুরুতেই পুরনো দিনের কথা উল্লেখ করেন  তৃণমূল নেত্রী। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মা-মাটি-মানুষের সেবার লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালের আজকের দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের পথচলা শুরু হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক যাত্রাপথের মূল দিশারী দেশমাতৃকার সম্মান, বাংলার উন্নয়ন এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা। আজও আমাদের দলের প্রতিটি কর্মী-সমর্থক এই লক্ষ্যে অবিচল এবং অঙ্গীকারবদ্ধ। তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা ও আত্মত্যাগকে আমি বিনম্র চিত্তে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাই।‘ এরপরেই তিনি লড়াকু বার্তা দিয়ে লেখেন, ‘আপনাদের অকুন্ঠ সমর্থনকে পাথেয় করেই বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের প্রত্যেকটি মানুষের জন্য লড়াইয়ে অবিচল আমরা। কোনও রকম অপশক্তির কাছে মাথা নত নয়, সকল রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই সাধারণ মানুষের জন্য আমাদের সংগ্রাম আজীবন চলবে।‘

বৃহস্পতিবার দলের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় প্রথমে কালীঘাটে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা তোলা হয়। তারপর  ১০টা নাগাদ দলের সদর দপ্তর বাইপাস সংলগ্ন তৃণমূল ভবনে পতাকা তোলেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। সকাল সাড়ে ১০টায় সায়েন্স সিটির কাছে পুরনো তৃণমূল ভবনে এই কর্মসূচি করেন রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। এসআইআর তো বটেই, নতুন বছরে তৃণমূলের অন্যতম হাতিয়ার ‘উন্নয়নের পাঁচালি’। এই দুটোকে সামনে রেখেই প্রচারে নেমে পড়েছে শাসক দল। জানুয়ারি মাসব্যাপী ব্লক ও অঞ্চলস্তরে চলবে এ নিয়ে প্রচার। এই দু’টি ইস্যুকেই বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটের মূল অস্ত্র করতে চাইছে তৃণমূল। এছাড়া বাংলার মনীষীদের ভুল নামে এবং বিকৃত উচ্চারণে সম্বোধন করে বিতর্কে জড়িয়েছে গেরুয়া শিবিরের নেতারা। তার প্রতিবাদে মনীষীদের জন্ম ও মৃত্যুর দিনগুলিকে সম্মান দিয়ে পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি।


গত ২০ ডিসেম্বর এই সংক্রান্ত কর্মসূচির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে নির্দিষ্ট করে বার্তা দলের সর্বস্তরে পাঠিয়েছিলেন রাজ্য সভাপতি। এসআইআর নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির পাশাপাশি ১ থেকে ৭ জানুয়ারি গান্ধীজি, নেতাজি, বিবেকানন্দ, বি আর আম্বেদকর-সহ বাংলা ও দেশের মনীষীদের সম্মান জানানোর কথা বলা হয়েছে। এর সঙ্গেই ‘উন্নয়নের পাঁচালির’ বিপুল প্রচার চলবে। এরপর ১২ জানুয়ারি বিবেকান্দের জন্মদিন, ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিনে ব্লকে, ওয়ার্ডে, অঞ্চলে সর্বত্র সুভাষ উৎসব করা হবে। এছাড়া ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবস পালনের সঙ্গে সঙ্গে ৩০ জানুয়ারি গান্ধীজির প্রয়াণ দিবসকে শহিদ দিবস হিসাবে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে স্মরণ করা হবে জানা গিয়েছে।