তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলে ভাঙনের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন সাংবিধানিক জটিলতা। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের ৫৯ জন বিধায়কের দাবি, উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। অন্যদিকে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও নিজের অবস্থান থেকে একচুল সরতে নারাজ। ফলে অষ্টাদশ বিধানসভায় প্রকৃত বিরোধী দল কে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন। তাই প্রকৃত বিরোধী দল নির্বাচন করতে প্রয়োজনে বিধানসভায় আস্থা ভোট নেওয়া হতে পারে।
শনিবার সকালে কালীঘাটে অনুষ্ঠিত তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠকের নথি প্রকাশ্যে এনে শোভনদেব শিবির সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি প্রমাণের চেষ্টা করে। তবে বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে খবর, পরিস্থিতি জটিল হলে স্পিকার রথীন্দ্র বোস আস্থা ভোটের পথেও হাঁটতে পারেন। এমনটা হলে তা হবে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। কারণ, সাধারণত সরকারই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে আস্থা ভোটের মুখোমুখি হয়। বিরোধী দলের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণে এমন ভোটের নজির নেই।
১৮ জুন রাজ্যপাল আর এন রবির ভাষণের মাধ্যমে শুরু হতে চলেছে বাজেট অধিবেশন। সেই অধিবেশনেই বিরোধী দলের আসল প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। সূত্রের খবর, মমতার ডাকা সাম্প্রতিক বৈঠকগুলিতে বিধায়কদের উপস্থিতি ক্রমশ কমেছে। শুক্রবারের বৈঠকে মাত্র ৮ জন বিধায়ক হাজির ছিলেন।
অন্যদিকে, আত্মবিশ্বাসী ঋতব্রত শিবির। তাঁদের দাবি, ৫৯ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থন তাঁদের হাতে রয়েছে এবং আস্থা ভোট হলে ফল তাঁদের পক্ষেই যাবে।
এদিকে দলীয় ভাঙন ঠেকাতে মমতা নিজে একাধিক বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে খবর। তবে তাতে এখনও পর্যন্ত তেমন সাড়া মেলেনি। প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানের মতে, স্পিকার যখন ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দিয়েছেন, তখন সেই সিদ্ধান্ত বদলের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। আস্থা ভোট হোক বা না-হোক, আগামী পাঁচ বছর বিরোধী দলনেতার আসনে ঋতব্রতকেই দেখা যাবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে প্রকৃত তৃণমূল কারা তা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।