তৃণমূলের নেতাদের বিজেপিতে নেওয়া হবে না, সাফ জানিয়ে দিলেন শমীক ভট্টাচার্য

রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূলের অন্দরে ফাঁটল ধরতে শুরু করেছে। তৃণমূলের অন্দরেই কয়েকজন নেতা যেমন দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করছেন। তেমনই তোলাবাজি ও দুনীর্তিমূলক কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে বেশ কিছু নেতার বর্তমানে ঠাঁই হয়েছে জেলে। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের বেশকিছু নেতা বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোরকদমে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার এএনআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন বিজেপির তৃণমূলীকরণ কখনোই হবে না।

শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বিজেপিতে বিরোধী দলের নেতাদের যোগদানের রাস্তা বন্ধ। তিনি বলেছেন, ‘তৃণমূলের জন্য আমাদের পথ বন্ধ। আমরা ২০৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছি। সাধারণ মানুষ তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। যেসব নেতারা দুর্নীতিগ্রস্ত তাঁদের কীভাবে আমরা বিজেপিতে নিযুক্ত করব? বিজেপির তৃণমূলীকরণ কখনোই হবে না।’ তবে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের দলের অন্দরে ঠাঁই না হলেও যেসব নেতারা তৃণমূলের অন্দরে থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন, তাঁদের বিজেপি দলে নেবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙনের পিছনে গুঞ্জন ছড়িয়ে যে, দলের অন্দরেই অনেক বিধায়ক নেতৃত্বের প্রতি অসন্তষ্ট। এমন দোলাচলের মধ্যে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ, মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির সঙ্গে বর্তমানে তৃণমূলের অবস্থার তুলনা করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের অন্দর থেকে আরেক তৃণমূলের উৎপত্তির খবর শোনা যাচ্ছে।বিধানসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূল নেতাদের উপরে হামলার প্রতিবাদে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি প্রতিবাদ কর্মসূচি করেছেন।


সেই কর্মসূচির আগে মমতাকে নিশানা করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রতিবাদ করতে দেবে না। তৃণমূল রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার মতোন অবস্থাতেই নেই।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যখন কোর্টে গিয়েছিলেন, সেই সময় কী হয়েছিল তা সকলেই জানেন। বর্তমানে তৃণমূল তৃণমূলেরই বিরোধী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন অনেক কথাই বলছেন। তিনি যা খুশি করতে পারেন। কিন্তু বাংলার মানুষ তাঁকে ত্যাগ করেছেন। খেলা শেষ।’