গ্রেপ্তার তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের নেতা মইদুল ইসলাম। ডায়মন্ড হারবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে আটক করার পর গ্রেপ্তার করা হয় বলে খবর। এদিনই তাঁকে ডায়মন্ড হারবার আদালতে পেশ করা হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে পরিচিত মুখ মইদুল ইসলাম। একসময় তিনি সিপিএমের সমর্থক ছিলেন। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। পরবর্তীকালে ডায়মন্ড হারবার এলাকায় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। সূত্রের দাবি, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত। উল্লেখ্য, সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিজিও কমপ্লেক্সে যাওয়ার সময়ও তাঁর সঙ্গে দেখা গিয়েছিল মইদুলকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২২ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বোলসিদ্ধি কালীনগর গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান দেবব্রত (নিমাই) ভট্টাচার্যের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তের সূত্র ধরেই মইদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন একটি সুইসাউড নোট উদ্ধার হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। সেই নোটে মইদুলের নাম উল্লেখ ছিল বলেও জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের মত, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই মৃত্যুরহস্যের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
গ্রেপ্তারের আশঙ্কার কথা আগেই সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন মইদুল। সোমবার রাতে করা এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, স্পেশাল টাক্স ফোর্স তাঁর খোঁজ করছে এবং যে কোনও সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। একই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যতই গ্রেপ্তার করুক, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও দিদির সঙ্গে আছি এবং থাকব’।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অপরাধমূল অভিযোগের তদন্তে প্রশাসনের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় বিভিন্ন অভিযোগে শাসকদলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে চার বছর আগের এক অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তে তৃণমূলের শিক্ষ সংগঠনের এই নেতার গ্রেপ্তারি নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।