ফের তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের এসআইআরের শুনানিতে ডেকে হেনস্থার অভিযোগ উঠল। এবার এসআইআর শুনানির নোটিস পেলেন মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার এবং সাগরদিঘির বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস। আগামী সপ্তাহে নিজেদের বুথে নথিপত্র নিয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে তাঁদের। তৃণমূলের অভিযোগ, দলের জনপ্রতিনিধিদের হেনস্থা করতেই এভাবে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে।
তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার রায়দিঘি বিধানসভার ৬২ সৌদিয়াল এফপি স্কুলের ভোটার। আগামী ২৮ জানুয়ারি দুপুর ১২ টা থেকে আড়াইটের মধ্যে সাংসদকে মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলে শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। ওই দিনই সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। জানা গিয়েছে, বাপির সঙ্গে তাঁর বাবার পদবির ক্ষেত্রে অমিল থাকার কারণ দেখিয়ে এসআইআর শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে।
বাপির অভিযোগ, বাজেট অধিবেশনের প্রথমদিনে ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে শুনানিতে ডেকে হয়রান করার পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। তিনি আবেদন জানিয়েছেন, শুনানির তারিখ পরিবর্তন করা হোক। বাপি হলেন তফসিল সম্প্রদায়ভুক্ত। তাঁর অভিযোগ, এসআইআরের নামে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির মানুষজনকে হেনস্থা করার চক্রান্ত করেছে। সেই কারণেই তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, এসআইআর-এর শুনানির নোটিস পেলেন মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস। বাইরন বিশ্বাস সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯ নম্বর বুথের ভোটার। সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও অঙ্কুশ কুমার ভকত শনিবার সন্ধ্যায় বিধায়কের বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে এসআইআর শুনানির নোটিস ধরান। আগামী ২৪ তারিখ দুপুর আড়াইটা নাগাদ বাইরনকে শুনানির জন্য হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাইরনের অভিয়োগ, ‘আমার প্রয়াত বাবা এই জেলার অন্যতম বিশিষ্ট শিল্পপতি ছিলেন। গোটা রাজ্যে আমাদের পরিচিতি রয়েছে। আমরা বহু বছর ধরে এই জেলার বাসিন্দা। তাও আমাকে এসআইআরে শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছে। এসআইআর শুরুর আগেই বিজেপি বলেছিল তারা দেড় কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেবে। বিজেপির এই দাবিকে মান্যতা দিতে নির্বাচন কমিশন এখন বিভিন্নভাবে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিতে চাইছে।
একজন বিধায়ক হিসেবে আমার সঙ্গে যদি এই ধরনের আচরণ করা হয় তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী করা হচ্ছে তা সহজে অনুমেয়। আমরা এই অনৈতিক এসআইআর মানছি না।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করতে চাইছে। প্রত্যেক মানুষের কাছে তিনি কাগজপত্র ঠিক রাখার আবেদন করেন। নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে ডাক পেলে সেখানে সঠিক সময় হাজিরা দেওয়ারও আর্জি জানান তিনি। প্রয়োজন পড়লে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।