ভোটের মুখে ফের উত্তপ্ত বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল তৃণমূল। শাসক দলের দাবি, জনসমক্ষে একাধিক আপত্তিকর মন্তব্য করে নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙেছেন তিনি।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে পাঠানো অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন কবির শাসক দলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন। সেই তালিকায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও রয়েছে। অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে ওই সাংবাদিক বৈঠকের একটি দৃশ্যও জমা দিয়েছে তৃণমূল।
শাসক দলের বক্তব্য, নির্বাচন বিধি অনুযায়ী কোনও প্রার্থী বা রাজনৈতিক নেতা অন্য কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্রমণ করতে পারেন না বা শালীনতার পরিপন্থী মন্তব্য করতে পারেন না। এই ধরনের মন্তব্য সরাসরি নির্বাচন বিধির পরিপন্থী এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তৃণমূলের অভিযোগ, হুমায়ুন কবিরের এই মন্তব্য শুধু নির্বাচন বিধি ভঙ্গই নয়, বরং তা আইনের নির্দিষ্ট ধারার আওতাতেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত শোকজ নোটিশ জারি করা, তদন্ত শুরু করা এবং কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি শাসক দলের তরফে একটি দৃশ্য প্রকাশ করা হয়, যেখানে অভিযোগ করা হয় যে হুমায়ুন কবির বিরোধী একটি দলের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতায় পৌঁছে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করার চেষ্টা করছেন। যদিও হুমায়ুন কবির এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ওই দৃশ্যটি ভুয়ো এবং কৃত্রিম প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট বিরোধী দলও এই ধরনের কোনও সমঝোতার কথা অস্বীকার করেছে। তবে এই ঘটনার পর এক রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে পূর্বঘোষিত জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই অভিযোগ ঘিরে চাপানউতোর আরও বাড়বে। এখন নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে—তারা কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই নির্ধারণ করবে এই বিতর্কের পরবর্তী দিক।