জোকায় ট্রাইব্যুনাল, দ্রুতই শুরু হবে কাজ

ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে কয়েক লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে অবশেষে বিচারবিভাগীয় স্তরে তৎপরতা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ শহরতলীর জোকায় ডায়মন্ড হারবার রোড সংলগ্ন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশনে বসতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত ট্রাইব্যুনাল। সূত্রের খবর, ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আগামী তিন-চার দিনের মধ্যেই সেখানে কাজ শুরু হতে পারে। ইতিমধ্যেই বিচারপতিরা কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন।

এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর রাজ্যে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই ফ্রিজ করা হয়েছে। ফলে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্য একমাত্র ভরসা এই ট্রাইব্যুনাল। এখানে তাঁদের আবেদন পুনর্বিবেচনা করা হবে। তবে বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে— যদি ট্রাইব্যুনাল কোনও আবেদনকারীকে বৈধ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে তিনি কি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন?

এই জটিল প্রশ্নই এখন পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, সোমবার এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভোটাধিকার গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি, তাই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেই রায়ের উপর নির্ভর করছে লক্ষ লক্ষ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার।


পরিসংখ্যান বলছে, সমস্যার ব্যাপ্তি অত্যন্ত বড়। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর সময় রাজ্যে মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৬৬ লক্ষের বেশি। খসড়া তালিকা প্রকাশের সময়ই প্রায় ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়ে। এরপর চূড়ান্ত তালিকায় আরও কয়েক লক্ষ নাম ছাঁটাই হয়। বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা বহু মানুষের ভাগ্যও শেষ পর্যন্ত বিপর্যস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে মুছে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে জোকায় ট্রাইব্যুনালের দ্রুত কাজ শুরু হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিচারপতিরা দ্রুত প্রক্রিয়া চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। এখন গোটা রাজ্যের নজর সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দিকে। সেই রায়েই স্পষ্ট হবে— বঞ্চিত ভোটাররা কি তাঁদের অধিকার ফিরে পাবেন, নাকি আইনি জটিলতার কারণে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবেন।