আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা: ট্রাইব্যুনালে চিন্ময়কৃষ্ণ দাস-সহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

বাংলাদেশের চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় নতুন মোড়। সোমবার চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী-সহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। জেলা ও দায়রা বিচারক মহম্মদ জাহিদুল হক এই নির্দেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচারপর্ব শুরু হল।

মামলার সূত্রপাত গত ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর। ওইদিন রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেপ্তার চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন খারিজ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় চট্টগ্রাম আদালত। আদালতের সেই আদেশ ঘিরে চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের উপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, উগ্র সাম্প্রদায়িক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেই এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে।

এদিন কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অভিযুক্তদের জেল থেকে আদালতে হাজির করানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলায় মোট ৩৯ জন অভিযুক্ত। তাঁদের মধ্যে ২৩ জন বর্তমানে কারাবন্দি থাকলেও ১৬ জন এখনও পলাতক। পলাতক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত চত্বর কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়। টেরি বাজার, লালদিঘির পাড়, কোতোয়ালি মোড় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ তৎপর, নিহতের পরিবারও ন্যায়বিচারের আশায় রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


অভিযুক্ত পক্ষ আইনি প্রক্রিয়ায় নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের কথা বলেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযোগ গঠন হয়েছে এবং বিচার শেষে দৃষ্টান্তমূলক রায় প্রত্যাশিত। এই মামলার রায় দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।