ডায়মন্ড হারবারের জেটি প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং

রাজ্যের পরিবহন দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিলেন পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি অভিযোগ করেন, ডায়মন্ড হারবারে জেটি নির্মাণের নামে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় সরকারি তদন্তের পাশাপাশি এফআইআর দায়ের করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্জুন সিংয়ের দাবি, বিশ্বব্যাঙ্কের অর্থে গ্রামীণ এলাকায় যেসব জেটি নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তার একাধিক ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি নথিতে দেখানো খরচের বিস্তর ফারাক রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, যে জেটি নির্মাণে বাস্তবে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা খরচ হওয়ার কথা, সেই কাজের জন্য খাতায়-কলমে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত বিল দেখানো হয়েছে।
মন্ত্রী বিশেষভাবে ডায়মন্ড হারবারের একটি জেটির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই সেটি ভেঙে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ সেই প্রকল্পে বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। তাঁর কথায়, প্রকল্পের গুণগত মান এবং অর্থব্যয়ের মধ্যে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে, যা তদন্তের দাবি রাখে।
পরিবহনমন্ত্রী আরও বলেন, এই ধরনের অনিয়ম বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। তাঁর দাবি, বিগত সরকারের আমলে পরিবহন দফতরেও ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে। কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড  সংক্রান্ত বিষয়েও বড় ধরনের গরমিলের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। অর্জুন সিংয়ের বক্তব্য, বহু জায়গায় কর্মীদের প্রাপ্য অর্থের সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না এবং সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, শুধু পরিবহন নয়, রেশন, শিক্ষা, পুর প্রশাসন-সহ একাধিক ক্ষেত্রেই দুর্নীতির শিকড় গভীরভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। সেই কারণেই নতুন সরকার প্রতিটি দফতরের পুরনো আর্থিক লেনদেন এবং প্রকল্পের খরচ পুনরায় পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
ডায়মন্ড হারবারের জেটি নির্মাণ প্রকল্পের প্রসঙ্গে অর্জুন সিং বলেন, কারা এই কাজের দায়িত্বে ছিল, কারা অনুমোদন দিয়েছিল এবং কীভাবে এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। ইতিমধ্যেই পরিবহন দফতরের তরফে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই ঘটনায় পরিবহন দফতরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের করা হবে এবং প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সাহায্যও নেওয়া হতে পারে।