ছুটির দিনে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা মন্দিরবাজারে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা দিতেই মৃত্যু কন্ডাক্টরের

Road Accident At Mandirbazar Photo-SNS

রবিবার সকালে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা ঘটল। মন্দিরবাজারের গাববেড়িয়া এলাকায় ৮৯ নম্বর রুটের একটি যাত্রীবোঝাই বাস উল্টে যায়। আর তার জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হলো বাসের কন্ডাক্টরের। ওই বাসের পিছনে ছিল দুধের গাড়ি। সেটাকে জায়গা দিতে গিয়েই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। আর তারপর রাস্তার ধারে থাকা একটি গাছে ধাক্কা মারে যাত্রীবাহী বাস। পথ দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে, বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কন্ডাক্টরের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজার থানার গাববেড়িয়ায় এই ঘটনাকে ঘিরে আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, মন্দিরবাজারের গাববেড়িয়া এলাকায় ৮৯ নম্বর রুটের একটি যাত্রীবোঝাই বাস নিয়্ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। তার জেরেই মারা যায় বাসের কন্ডাক্টর। ওই কন্ডাক্টরের নাম খোকন সর্দার (৫৭)। এই পথ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন মোট ১১ জন যাত্রী। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। রবিবার সকালে জুমাই নস্কর থেকে যাত্রীদের নিয়ে ওই বাসটি লক্ষ্মীকান্তপুরের দিকে যাচ্ছিল। গাববেড়িয়ার কাছে ওই বাসের পিছনে থাকা একটি দুধের গাড়িকে জায়গা দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। আর তার জেরেই বিপত্তি ঘটে। বাসের গতি বেশি থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক।

স্থানীয় সূত্রে খবর, রাস্তার পাশে থাকা একটি গাছে নিয়্ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে বাসটি। ঘটনাস্থলেই বাসের কন্ডাক্টরের মৃত্যু হয়। বাসে থাকা কয়েকজন যাত্রীও গুরুতর আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাসটি গাববেড়িয়া এলাকায় পৌঁছলে ভগবতীপুরে বেহাল রাস্তার জেরে একটি দুধবাহী পিকআপ ভ্যানকে সাইড দিতে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। তখনই বাসজুড়ে চিৎকার-আর্তনাদ শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পথ দুর্ঘটনার জেরে ওই রাস্তায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।


তাছাড়া কন্ডাক্টর খোকন সর্দারের এভাবে মৃত্যু নিয়ে বাস সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বাস সংগঠনের দাবি, যে এলাকায় পথ দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটার একাংশের রাস্তা খারাপ। তাই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করার জেরে যে কোনও সময় পথ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। মন্দিরবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। আর কন্ডাক্টরের মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এই মর্মান্তিক পথ ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাস সংগঠনের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বেহাল অবস্থার জেরে পথ দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। সেটাই ঘটেছে। অবিলম্বে রাস্তা মেরামত করে অবৈধ যান চলাচল বন্ধ করতে হবে।