দীর্ঘদিন ধরেই পুরসভার কলে আসা কালো জল নিয়ে সমস্যার মধ্যে রয়েছেন খড়্গপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা । বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নেমে সেই কালো জলের প্রসঙ্গই টেনে এনেছেন দিলীপ। আর দিলীপের মুখে এই কালো জল – এর কথা চরম অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে ।
২০১০ সাল থেকে (মাঝে দেড় বছর বাদ দিয়ে) টানা ১৫ বছর পুরসভার ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস কালো জলের সমাধান করতে না পেরে চরম নাস্তানাবুদ হয়েছে । জহর পাল, তুষার চৌধুরী, প্রদীপ সরকার, তৈমুর আলী খান থেকে হাল আমলের আমলের কল্যাণী ঘোষ কোন পুরপ্রধানই কালো জলের সমস্যার সমাধান করতে পারেননি।
দিলীপের কথার জবাব দিতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ সরকার বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ আমরূট প্রকল্পে কেশপালে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরির কাজ চলছে। সেই কাজ শেষ না হওয়া অব্দি কালো জলের সমস্যা দূর করে করা যাবে না। আমরা সেই জন্য খড়গপুরের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি । পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে দিলীপ ঘোষকে বহিরাগত তকমা লাগিয়ে প্রদীপের প্রশ্ন, দিলীপ সাংসদ হিসেবে যদি ভালো কাজই করে থাকবেন তাহলে ২০২৪ সালে তাকে মেদিনীপুর থেকে দুর্গাপুরে সরিয়ে দেওয়া হল কেন ? আবার ২০২১ থেকে বিধায়ক থাকা হিরন চট্টোপাধ্যায়কে এবারে অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে ফের দিলীপকে কেন নিয়ে আসা হলো ? আসলে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতি রাখতে পারে না। তাই নেতাদের মুখ লুকোতে হয়। প্রদীপ আরো বলেন, উনি বহিরাগত। রেলের বাংলো দখল করে রয়েছেন । পাঁচ বছর উনাকে খড়্গপুরে দেখা যায়নি। একটা সাধারণ সই করার জন্য ওনাকে খুঁজে বের করতে হয়। বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে খড়গপুরবাসীর গত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাই তাকে ভোটের ময়দানে এগিয়ে রাখবে এটাই মনে করছেন প্রদীপ।
প্রদীপের অস্বস্তি পুরসভা । ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে এসে প্রদীপকে পুরপ্রধান পদ থেকে সরিয়ে দেয় দলেরই ২১ জন কাউন্সিলর। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দলেরই একাংশ কাউন্সিলরদের মদতে কল্যাণী ঘোষকে প্রথমে শো কজ, পরে পুরপ্রধান পদ থেকে সরিয়ে পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে বিরোধী দলের ৬ জন কাউন্সিলর পুনরায় পুরবোর্ডকে বহাল করেন। পুরপ্রধান পদ ফিরে পান কল্যাণী ঘোষ। পুরসভা চালাতে যেখানে প্রতি পদে ঠোক্কর খেতে হচ্ছে সেখানে পুরসভা সম্পর্কিত বিষয়ে উত্তর দেওয়া যে চরম অস্বস্তিকর এটা বুঝেই দিলীপবাবু কৌশলে কালো জলের প্রসঙ্গ তুলে এনেছেন।
পাশাপাশি উঠে আসছে খড়গপুর শহর লাগোয়া একটি মেটালিকস সংস্থার দূষণ। এই দূষণ নিয়ে নাগরিক সমাজ আন্দোলনে নেমেছে। দিলীপবাবু বলছেন, বিধায়ক হওয়ার পর তিনি দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে চিঠি দিয়েছিলেন । সেই বিষয়ে তদন্ত হয়। কিন্তু তারপরে পুরসভা এবং রাজ্য সরকারের যে কার্যকরী ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল সেটা তারা নেয়নি। ফলে দূষণ বেড়েছে । মানুষের হাঁপানি, ক্যান্সার জাতীয় রোগও বেড়েছে । বিজেপি ক্ষমতায় এলে শিল্প আসবে,কর্মসংস্থান বাড়বে, সেই সঙ্গে দূষণের মাত্রাও কমানো হবে। দিলীপকে আক্রমণ করে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ সরকারের জবাব, রাম মন্দির উদ্বোধনের সময় যোগী আদিত্যনাথের পাশে মেটালিক সংস্থার মালিককে বসে থাকতে দেখা গেছে। বিজেপি নেতারা একরকম কথা বলেন, আরেক রকম কাজ করেন। দূষণ নিয়ে ওরা কিছুই করতে পারবেন না। আমরাই এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব।
দিলীপের প্রচারে এই নির্বাচনী ‘গুগলি’ তাই তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার ও তার দল তৃণমূল কংগ্রেসকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে।