দল এখন ক্ষমতায় নেই। রাজ্যে সরকার বদল হওয়ার পর থেকে একে একে নেতা-কর্মী থেকে প্রাক্তন মন্ত্রীরা নানা অভিযোগে জেলে গিয়েছে। তবুও কিছু নেতা-কর্মীর হিংসাত্মক কাজকর্ম থামেনি। কারও বাড়ি থেকে টাকা মিলছে, কারও কাছ থেকে গয়না মিলছে এবং কেউ কেউ এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে নানা হিংসার কাজ করে চলেছে বলে অভিযোগ। এই আবহে কোচবিহারের দিনহাটায় তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতিকে আটক করল পুলিশ। তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর।
এদিকে এই যুব নেতা এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ নিয়ে ঘোরাঘুরি করে বলে ছিল অভিযোগ। বুধবার এই তৃণমূলের যুব নেতাকে আটক করল পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। কোচবিহারের দিনহাটার উত্তর বড়শাকদল এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই এলাকায় আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তৃণমূলের ওই যুব নেতাকে আটক করে পুলিশ। তাঁর নাম জয়ন্ত বর্মণ (৩৪)। তিনি উত্তর বড়শাকদল এলাকার বাসিন্দা।
অন্যদিকে জয়ন্ত বর্মণ বড়শাকদল অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি হিসাবেই পরিচিত। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযান চালানোর সময় জয়ন্ত বর্মণের কাছ থেকে একটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। উপযুক্ত তথ্য দিতে না পারলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তাছাড়া এই যুব নেতার বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র আইনে একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি কেন রাখা হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইছে পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে তাঁর কাছে এল? তাও জানতে চায় পুলিশ। রাজ্যে পালাবদলের পর অপরাধ ঠেকাতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে রাজ্য সরকার। তারপর থেকে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে সক্রিয়তা বাড়িয়েছে পুলিশ প্রশাসন। দুর্নীতি, তোলাবাজি, মারধর-সহ একাধিক অভিযোগে একের পর এক তৃণমূল নেতা-কর্মী এখন জেলে ঘানি টানছে। এই অবস্থায় এলাকায় সন্ত্রাস তৈরির অভিযোগে আরও এক তৃণমূল যুব নেতাকে আটক করল পুলিশ।