বারুইপুরের ঘটনার প্রতিবাদে রাজপথে মমতা, ব্যারিকেড রুখতে পারল না মোমবাতি মিছিল

Mamata Banerjee Candle Rally Photo-AITC X Handle

বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছে। তার মধ্যেই রয়েছে মূল অভিযুক্ত। দু’জনকে সোমবার আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশ হেপাজত দেওয়া হয়েছে। মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হবে। এই আবহে বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে রাজপথে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নিজের কালীঘাটের বাড়ি থেকে মোমবাতি হাতে মিছিল করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বাধা দেয় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী বলে অভিযোগ। তবে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায় মোমবাতি মিছিল।

এদিকে এই মিছিল থেকে স্লোগান ওঠে ‘জাস্টিস ফর বারুইপুর’। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এদিন দেখা গেল, কালীঘাট তৃণমূলের মহিলা নেতৃত্বকে। বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড, মোমবাতি হাতে মিছিলে সামিল হলেন দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, অপরূপা পোদ্দাররা। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় ব্যাপক পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই মিছিলটি পুলিশের বাধা পেয়ে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায়। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কালীঘাটের বাড়িতেই মিছিল শেষ করেন। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাধা টপকে, ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল নিয়ে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের মূল রাস্তায় পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে নাবালিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দ্রুত অ্যাকশন নেয় পুলিশ। তবে মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামা আগে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে লেখা হয়, ‘মিস্টার শুভেন্দু অধিকারী, আপনি এক চরম ভণ্ড! ঠিক যেমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লাগাতার অত্যাচার চলা সত্ত্বেও মণিপুরে যাওয়ার সময় পাননি, তেমনই আপনার নজরদারিতে বারুইপুরে যে ছোট বাচ্চাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুন করা হলো, তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সময় আপনি পেলেন না।’ যদিও দোষীদের কঠোরতম শাস্তির আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।


তাছাড়া এদিন দুপুরেই বারুইপুরে গিয়ে ওই নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধিদল। ওই প্রতিনিধিদল কলকাতায় ফিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট দেন। তারপরই কালীঘাটে বাড়ির সামনে মোমবাতি হাতে মিছিল করেন তৃণমূলনেত্রী। রাজ্যে পালাবদলের পর হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন তিনি। এবার বারুইপুরে মৃত নাবালিকার জন্য বিচার চেয়ে প্রতিবাদে রাজপথে নামলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূলের তোপ, ‘এখন শোনা যাচ্ছে তিনি নাকি আগামীকাল নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন। কারণ আজ তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত! অগ্রাধিকার কাকে বলে দেখুন! বিজেপি নেতারা নির্লজ্জতার কোন সীমায় পৌঁছাতে পারেন সেটা সত্যিই ভাবা যায় না।’