রাজ্য-রাজনীতি এখন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিম থেরাপি। রাজ্যে পালাবদলের পর বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের উপর ডিম ছুঁড়ে মারার ঘটনা ঘটেই চলেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে তৃণমূল। আর তাতে রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। কিন্তু গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর প্রায় দু’মাস কেটে গেলেও বীরভূম জেলা পরিষদে দেখা নেই স্বয়ং সভাধিপতি কাজল শেখের! এমনকী দেখা মিলছে না তাঁর অনুগামী কর্মাধ্যক্ষদেরও।
এদিকে এই অনুপস্থিত থাকার জেরে বীরভূমবাসী পরিষেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। এমনকী সেখানের সামগ্রিক উন্নয়নও থমকে রয়েছে। এই অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর কাজল শেখ ঋতব্রত গোষ্ঠীর সঙ্গে সখ্যতা বাড়াতে জোর তৎপর হয়ে উঠেছে। কাজলের প্রতি মানুষ ভরসা রেখে ভোট দিয়েছিলেন। তার যে এমন প্রতিদান মিলবে সেটা কল্পনা করতে পারেননি কেউ। বিধানসভা নির্বাচন ছিল বলে জারি হয়েছিল আদর্শ আচরণবিধি। তাই মার্চ মাস থেকে কাজ থমকে ছিল। সেটা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে জনপ্রতিনিধিদের এই অনুপস্থিতি এবং স্থায়ী সমিতির বৈঠক না হওয়ায় বীরভূম জেলার গ্রামীণ উন্নয়নের চাকা থমকে গিয়েছে। এই নজিরবিহীন অচলাবস্থা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। এই বিষয়ে বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি দীপক দাসের বক্তব্য, ‘সভাধিপতি-সহ কর্মাধ্যক্ষরা জেলা পরিষদে আসছেন না। তাই মানুষ সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁরা মানুষের রায়ের প্রতি অবিচার করছেন। হয় তাঁরা অবিলম্বে নিজেদের সরকারি দায়িত্ব পালন করুন না হলে চেয়ার ছেড়ে দিন।’
তাছাড়া কাজল শেখ না উপস্থিত হওয়ায় জুন মাসের শুরুতেই পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রায় ৭ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা জেলা পরিষদের তহবিলে ঢুকেও পড়ে আছে। গ্রামীণ এলাকার পানীয় জল, রাস্তাঘাট এবং নিকাশি ব্যবস্থার মতো অত্যন্ত জরুরি পরিকাঠামো উন্নয়নের কোনও কাজ হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী সমিতির বৈঠক এবং সভাধিপতির চূড়ান্ত প্রশাসনিক এবং আর্থিক অনুমোদন ছাড়া এই কোষাগারের টাকা খরচ করা সম্ভব নয়। তাই তহবিলে কোটি কোটি টাকা পড়ে থাকলেও জনপ্রতিনিধিদের গরহাজিরের কারণে এই টাকার সদ্ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তাই প্রশ্ন উঠছে, কেন কাজ শেখ আসছেন না? এই বিষয়ে বিজেপির দাবি, জেলা পরিষদে এলেই সাধারণ মানুষ এবং কর্মীদের হাত থেকে ‘ডিম থেরাপি’ জুটতে পারে। জেলা পরিষদকে যেভাবে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি ভেবে এতদিন কর্মীদের উপর ‘থ্রেট কালচার’ চালিয়েছেন তাঁরা, তাতে এখন নিজেরাই ভয়ে আসছেন না।