আইটি সেলের পদ চলে গেল দেবাংশু ভট্টাচার্যের, দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনার জের

বরাবরই নানা বিষয়ে সমালোচনা করে থাকেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। তবে বেশিরভাগ সময়ই তাঁর নিশানায় থাকত বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা। এখন রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। নিজেও হেরে গিয়েছেন বিধানসভা নির্বাচনে। তাঁর উপর তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেলের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু সেটাও এবার তাঁর হাত ধরে সাফল্য পায়নি। তা নিয়ে দলের অন্দরে অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করেন। এই আবহে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য দলীয় নেতৃত্বের সমলোচনা করেছিলেন সমাজমাধ্যমে। আর তার জেরেই কোপে পড়লেন দেবাংশু ভট্টাচার্য। আর তাই তাঁকে দলের আইটি সেলের ইনচার্জ পদ থেকে সরিয়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেস।

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা থেকে চলে যেতেই ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। ইতিমধ্যেই তিনজন রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করেছেন। ২০ থেকে ২২ জন লোকসভার সাংসদ পৃথক ব্লক গঠন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমনকী বিধানসভায় প্রায় ৬০ জন বিধায়ক নিজেদের আসল তৃণমূল বলে প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠেছে। সুতরাং সব দিক থেকে ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। এই ভাঙন নিয়েই দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন দেবাংশু। আর তার জেরে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়া সেলের চেয়ারপার্সন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেবাংশুর জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে উপাসনা চৌধুরীকে।

অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনে চুঁচুড়া বিধানসভা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দেবাংশু ভট্টাচার্য। তৎকালীন বিধায়ক অসিত মজুমদারকে টিকিট না দিয়ে দেবাংশুকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু দেবাংশু পরাজিত হয়েছেন। আর বিধানসভা নির্বাচনে দলেরও ভরাডুবি হয়। কিন্তু দলের এই কঠিন সময়ে প্রকাশ্যে এসে তৃণমূল কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি দেবাংশু ভট্টাচার্যকে।  এমনকী দলের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে এবং সংবাদমাধ্যমে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেন দেবাংশু। তার জেরেই খোয়া গেল পদ বলে মনে করা হচ্ছে।


তাছাড়া এবার সংগঠন নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এই কাজ চলাকালীন দলের অন্দরে বৈঠক হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় সরিয়ে দেওয়া হবে দেবাংশুকে। ঠিক কী পোস্ট করেছিলেন দেবাংশু সমাজমাধ্যমে?  দলের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমে দেবাংশু পোস্ট করেন, ‘কিছু চোর ডাকাত তোলাবাজদের গ্রেপ্তার দেখে যে কী আনন্দ পাচ্ছি, বলে বোঝানোর নয়। এই দিনটার জন্য দল দায়ী। দল সঠিক সময়ে শক্ত হাতে সামলাতে পারেনি।’ আর তারপরই খোয়া গেল দলীয় পদ। যদিও এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি দেবাংশু।