ফলতা উপনির্বাচনের দিনই পথে তৃণমূল, রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভের ডাক

প্রতীকী চিত্র

ফলতা উপনির্বাচনের দিনই রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক তৃণমূল কংগ্রেসের। ভোট-পরবর্তী হিংসা, দলীয় কর্মীদের গ্রেপ্তার এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ আগামী ২১ মে একাধিক জায়গায় প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে মঙ্গলবার ঘোষণা করলেন।

এদিন কালীঘাটে তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ জানান, বালিগঞ্জ, শিয়ালদহ-সহ কলকাতার একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ কর্মসূচি হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলতা উপনির্বাচনের আবহে এই কর্মসূচি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ নির্বাচনের দুই দিন আগেই ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছেন। তারপর থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। জাহাঙ্গির খান দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ফলতার উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণার পর তিনি ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


তবে তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত জাহাঙ্গীরের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। দলের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই জাহাঙ্গির খান এই ঘোষণা করেছেন বলে দাবি কুণাল ঘোষের। তাঁর কথায়, ‘এটি সম্পূর্ণ ওর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। দলের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।’ একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ফলতায় তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট এবং কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে।

তৃণমূলের সমাজমাধ্যম পেজেও এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই ফলতা এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের উপর লাগাতার চাপ তৈরি করা হচ্ছে। দলের অভিযোগ, শতাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একাধিক দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং জোর করে দখলের ঘটনাও ঘটেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলেও দাবি তৃণমূলের।

তৃণমূল আরও জানিয়েছে, প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে বিজেপি ভয় দেখানোর রাজনীতি করছে। যদিও চাপের মধ্যেও দলীয় কর্মীরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি শাসকদলের। এই পরিস্থিতিতে ফলতা উপনির্বাচনের দিন রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের বিক্ষোভ কর্মসূচি নতুন রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।